Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৮ ||  ১৬ সফর ১৪৪৩

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে ভূমি উন্নয়ন শুরু হবে শিগগির

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১১, ২৯ আগস্ট ২০২১  
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে ভূমি উন্নয়ন শুরু হবে শিগগির

নেত্রকোনায় ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্মাণের জন্য ভূমি উন্নয়নের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। ভূমি উন্নয়নের জন্য আহ্বান করা দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে মেসার্স নুরুজ্জামান খান। ২৩৯ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩২ টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে প্রতিষ্ঠানটি। 

সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের আওতাধীন ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা স্থাপন’ প্রকল্পের ডিপিপি গত ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪১ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন কাল ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে ডব্লিউডি-৩ প্যাকেজের আওতায় অধিগ্রহণ করা ভূমি উন্নয়নকাজের জন‌্য অর্থের সংস্থান আছে। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নে অধিগ্রহণ করা ৪৯৮.৪৫ একর ভূমি উন্নয়নের লক্ষ্যে ই-জিপিতে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

বিবেচ্য উন্নয়ন কাজের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট সিডিউল অনুযায়ী ২৪০ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাপ্তরিক প্রাক্কলন করা হয়। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে বিবেচ্য উন্নয়ন কাজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ৩৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সংস্থান আছে।

ভূমি উন্নয়নে কাজের দরপত্র বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। দরপত্র দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত ১১টি দরপত্র দলিল বিক্রি হয় এবং ৫টি দরপত্র দাখিল করা হয়। ওই দিনেই তা উন্মুক্ত করা হয়। প্রকল্পের দাপ্তরিক প্রাক্কলন ২৪০ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। দরপত্রে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড যৌথভাবে ২১৬ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার ১১০ টাকা, মেসার্স নুরুজ্জামান খান ২৩৯ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩২ টাকা, ই-ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২৬৩ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৩৬৮ টাকা, তমা কন্সট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ও ইপিসি কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে ২৮০ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ৪১৬ টাকা এবং ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স প্রাইভেট লিমিটেড ৩১৯ কোটি ৯২ লাখ ১১ হাজার ৩২৩ টাকা দর উল্লেখ করে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) দরপত্র উন্মুক্ত করে। এতে দেখা যায়, ৫টি দরপত্রের মধ্যে দুটি দরপত্র প্রাক্কলিত দরের ১০ শতাংশের বেশি হওয়ায় একং একটি দরপত্র ১০ শতাংশের নিচে হওয়ায় মোট ৩টি দরপত্র ই-জিপিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। অপর দুটি দরপত্র ই-জিপি ব্যবস্থায় মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটির মূল্যায়নে দাখিল করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ই-জিপি ব্যবস্থায় দুটি দরপ্রস্তাব যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করায় মূল্যায়ন কমিটি মেসার্স নুরুজ্জামান খান ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করে। এর মধ্যে মেসার্স নুরুজ্জামান খান ২৩৯ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩২ টাকা দর উল্লেখ করে যা প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ০.৪৬ শতাংশ কম এবং ই-ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২৬৩ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৩৬৮ টাকা উল্লেখ করে যা প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৯.৩৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মেসার্স নুরুজ্জামান খানের নাম প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করে।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়