ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ৪ ১৪২৯ ||  ২০ মহরম ১৪৪৪

আপনি ঠাণ্ডা থাকেন, আমি চান্স নেই, সাকিবকে বলেছিলেন মেহেদী

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ৫ আগস্ট ২০২১  
আপনি ঠাণ্ডা থাকেন, আমি চান্স নেই, সাকিবকে বলেছিলেন মেহেদী

ব্যাটিংয়ে মেহেদী হাসান

এলোমেলো সব শট। কখনো ব্যাটের কোণায় লাগে, তো কখনো নিচে। আবার মাঝ ব্যাটে লাগলেও টাইমিংয়ে গড়বড়। পাওয়ার প্লেতে বৃত্তের বাইরে মাত্র দুইজন ফিল্ডার। ফলে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠিয়ে দৌড়ে দুই রান নিতে পারছেন নিশ্চিন্তে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মেহেদী হাসানের ব্যাটিং ছিল এরকমই। লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২২ রান। শুরুতে সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ সাজঘরে ফিরলে মেহেদীকে চারে পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের অভ্যাস থাকায় তার তেমন কোনো সমস্যাই হয়নি। কিন্তু মন্থর উইকেটে বল ব্যাটে আসছিল না। অস্ট্রেলিয়ার বোলিংও ছিল আঁটোসাঁটো। ফলে টাইমিং মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে ডানহাতি ব্যাটসম্যান রেখেছিলেন কার্যকরী ভূমিকা। সঙ্গে সাকিবকে জানিয়েছিলেন, মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাটিং করতে। বোলারদের ওপর চড়াও হবেন তিনি।

দুজনের ৩২ বলে ৩৭ রানের জুটির রহস্য বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেহেদী, ‘আমাকে যেহেতু উপরে পাঠানো হয়েছিল, আমি সাকিব ভাইকে বলছিলাম, আপনি কোনো ঝুঁকি নিয়েন না। আমি সব বলেই চেষ্টা করছি। যদি বের হয়ে যায় (বাউন্ডারি) তাহলে তো খুবই ভালো। আপনি ঠাণ্ডা থাকেন, আমি প্রতি বলেই চান্স নিব।’

২১ রানে যখন ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, তখন মাঠে আসেন মেহেদী। হ্যাজেলউডের মুখোমুখি হয়ে প্রথম ৫ বলে কোনো রানই নিতে পারেননি তিনি। স্পিন আক্রমণ আসতেই খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন। অ্যাগারকে প্রথমে লং অফে পাঠিয়ে ২ রান নেন। এরপর মিড উইকেটে পাঠিয়ে আরেকটি ২। পরের ওভারে হ্যাজেলউডের বলে আরো দুইটি ২ রান। এবং সপ্তম ওভারে অ্যাগারকে লং অফে পাঠিয়ে আবার তার ব্যাট থেকে আসে ২ রান। সব মিলিয়ে তার ২৩ রানের ইনিংসে ছয়টিই ছিল ডাবল রান। তবে জাম্পাকে অষ্টম ওভারে লং অফ দিয়ে যে ছক্কা মেরেছিলেন তা ছড়িয়েছিল মুগ্ধতা। কিন্তু ওই শট আরেকবার চেষ্টা করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২৪ বলে ২৩ রানে ফিরলেও মেহেদী দাবি কঠিন পরিস্থিতিতে তার ছোট অবদান লক্ষ্য তাড়ার চাপ কমায়।

মেহেদী বলেন, ‘উইকেটটা খুব সহজ ছিল না। চাইলেই বল ব্যাটে চলে আসে এমন না। ওদের বোলাররা বিশ্বমানের, ওরা জায়গা ছাড়া বল করে না। কষ্ট হয়েছে কাজ করতে গিয়ে। যতটুকু করতে পেরেছি তাতে দল কিছুটা লাভবানই হয়েছে। অমন ইনিংসের জন্য আমরা যে চাপে ছিলাম, সেটা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল।’

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও মেহেদী রাখছেন অবদান। দুই ম্যাচেই তার ঘূর্ণিতে শুরুতে ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড করেছিলেন ক্যারিকে। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিতে সাজঘরের পথ দেখান দ্বিতীয় ওভারে। পাওয়ার প্লেতে স্পিনারদের বোলিংয়ের ঝুঁকি থাকলেও নতুন বল দারুণ মেহেদী উপভোগ করেন। 

তিনি বলেছেন,‘সাদা বলের ক্রিকেটে নতুন বলে আমি বোলিং করতে পছন্দ করি। প্রথমত যেটা মাথায় থাকে, ডট বল করা। পাওয়ার প্লেতে যত রান ছাড়া বল করা যায়। কারণ, পাওয়ার প্লেতে সবাই চায় বৃত্তের সুবিধা ব্যবহার করতে। ছয় ওভার পর তো পাঁচ ফিল্ডার বাইরে থাকে। তাই বেশিরভাগ খেলোয়াড় ঝুঁকিটা নিতে চায় রান বড় করার জন্য। তাই পাওয়ার প্লেতে আমার লক্ষ্য থাকে যত ডট বল করা যায় এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে যত সম্ভব চাপে রাখা। বিশেষ করে, আমাদের এই কন্ডিশনে ব্যপারটা তো আরো বেশি, স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলতে গেলে ব্যাটসম্যানদের কাজটা ওতটা সহজ হয় না। এই ক্ষেত্রে লাইন ও লেংথ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যানকে কীভাবে তার দুর্বল জায়গায় বোলিং করব বা তাকে কীভাবে আটকাব সেটা সব সময় মাথায় থাকে। প্রতিটা বলেই মনে হয়, ডট বল দিতে হবে। এইটা সব সময় মাথায় কাজ করে।’

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়