ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৫ ১৪২৮ ||  ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সুর পাল্টে শান্তির বার্তা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ৫ ডিসেম্বর ২০২১  
সুর পাল্টে শান্তির বার্তা!

শুরুটা হয়েছিল ওমানে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর রীতিমতো যুদ্ধের পতাকা উড়িয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি! দায়িত্বশীল পদে থেকেও ক্রিকেটারদের সমালোচনার স্তুপে ঠেলে দেন। সমালোচনায় বিদ্ধ মুখগুলো মলিন হলো। পারফরম্যান্সে ধার বাড়লো।

পরের দুই ম্যাচ জিতে সাকিব, মাহমুদউল্লাহও ছাড় দিলেন না। পাল্টা জবাবে আগুনে ঘি ঢাললেন। তাতে যা হবার তাই হলো, দূরত্ব বাড়লো ক্রিকেটার আর নীতি নির্ধারকদের মধ্যে। মাঠের পারফরম্যান্সের সূচক দিনকে দিন নিচে নামলো। মাঠের বাইরে এলোমেলো আলোচনায় ঘোলাটে হলো চারপাশ। বিশ্বকাপ শেষ হয়, কিন্তু পরিস্থিতি ভালো হয় না। আবার মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু এক হয় না সবাই।

একের পর এক হারের ক্ষত যখন যন্ত্রণা বাড়াচ্ছিল তখন ‘মলম’ নিয়ে এগিয়ে এলেন সেই বোর্ড সভাপতিই। সুর পাল্টে দিলেন শান্তির বার্তা। পাশে দাঁড়ালেন ক্রিকেটারদের। তার দাবি, সমালেচনা বোর্ড থেকে নয়, হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই চাপই নিতে পারেননি ক্রিকেটাররা।

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে বোর্ড প্রধান বলেছেন, ‘একটা সিরিজে খারাপ খেলার জন্য ওদের নিয়ে যা বলা হয় এটা কি ঠিক? অকল্পনীয়। আমার বিশ্বাসই হয় না। এই যে বাবর আজম, বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার, আমাদের দেশে রান করেছে? তাই বলে ওর বিরুদ্ধে এরকম লেখা হয়? কেন আমাদের খেলোয়াড়দের বেলায় এমন হয়? এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা কিন্তু মিডিয়া করে না। করে সোশাল মিডিয়া। খেলোয়াড়দের জন্য এটা বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটা থেকে বের হতে হবে।’

এছাড়া বোর্ড নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে (বোর্ডের) বলার কোনও প্রশ্নই আসে না। যারা না বুঝে বলে সেটা এক জিনিস। কিছু লোক আছে সব জানে। তারপরও টিভিতে, টকশোতে যখন বলে, জেনেশুনে দেশের বিরুদ্ধে বলে।’

অথচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হারের পর বোর্ড প্রধানই সমালোচনার শুরু করেন। গণমাধ্যমে ক্রিকেটারদের প্রত্যেককে নিয়ে সমালোচনা করেন নাজমুল হাসান। হারের জন্য তিন সিনিয়রের ওপর দায় চাপান। দল নির্বাচন, বোলিং, ব্যাটিং সবকিছু নিয়েই সমালোচনা করেন। এসব নিয়ে দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মে। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ম্যাচ জিতে সাকিব সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব প্রত্যেকটি প্রশ্নের শক্ত উত্তর দেন।

ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে মাহমুদউল্লাহ অকপটে বলে দেন, ‘শক্ত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আমরাও মানুষ। আমরাও ভুল করি। এ কারণে একদম ছোট করে ফেলা ঠিক না। এটা আমাদের দেশ। আমরা সবাই এক দেশের জন্য খেলি। সমালোচনা হবেই খারাপ খেললে। কিন্তু একেবারে ছোট করে ফেলা ঠিক না। সব সেক্টরেই এমন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম ও বাইরে থেকেও।’

ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্যের পর বিশ্বকাপ চলাকালিন কোনো কথাই বলেননি বোর্ড প্রধান। চিকিৎসা করাতে উড়ে গিয়েছিলেন লন্ডনে। সুস্থ হওয়ার পর মাঠমুখী হলেও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চুপ থাকেন।

ক্রিকেটারদের পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়ার কথা শোনালেন নাজমুল হাসান। সঙ্গে তাদের এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বিসিবি, ‘আমি ওই লাইনে চিন্তা করি না। আমি বরং চিন্তা করছি কীভাবে খেলোয়াড়দের (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে) প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ওরা যেন খেলা চলাকালিন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক থাকে। খেলা চলাকালিন শুধু খেলায় মনোযোগী থাকে, সেটা চিন্তা করছি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে এখন মেঘের ঘনঘটা। অনেক দিন ধরেই বলার মতো সাফল্য নেই। ক্রিকেটে ফল পেতে ক্রিকেটারদের নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। সেই পথ বেছে নিয়েছেন বোর্ড প্রধান। এবার কি তাহলে সাফল্য সূর্য উঁকি দেবে?

ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়