ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ওয়ার্নের মৃত্যু: তরল খাবারের ডায়েটই কি কারণ?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৯, ৯ মার্চ ২০২২   আপডেট: ০৮:২৮, ১০ মার্চ ২০২২
ওয়ার্নের মৃত্যু: তরল খাবারের ডায়েটই কি কারণ?

ময়নাতদন্ত শেষে জানা গেছে, অস্বাভাবিক নয়, স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে শেন ওয়ার্নের। তার বন্ধুমহল সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত ওজন কমাতে ১৪ দিনের তরল খাবারের ডায়েটে ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে একটি পুরোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে ওয়ার্ন লিখেছিলেন, ‘গত ১০ দিন ধরে ওজন কমানোর লড়াইয়ে। কয়েক বছর আগে যে শরীর ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে তেমন করে গড়তে চাই। এগিয়ে চলো।’

আরো পড়ুন:

বন্ধুরা বলেছেন, এর আগেও কয়েকবার এই খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে ছিলেন ওয়ার্ন। যদিও তার আকস্মিক মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তারপরও আলোচনায় আসছে ওয়ার্নের চরম ডায়েটের বিষয়টি। এমন ডায়েট কতটা নিরাপদ এবং শরীরের ওপর কার্যকারিতা কী, সেই প্রশ্নও উঠছে।

বিশ্বে অনেক ধরনের তরল খাবার গ্রহণের অভ্যাস প্রচলিত আছে, উদ্দেশ্য একই- কম ক্যালরি গ্রহণ করে দ্রুত ওজন কমানো।

ফ্যাশনেবল ফল ও শাকসবজির জুস থেকে শুরু করে কম ক্যালরির শেক ও স্যুপ শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে দেয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের চরম ডায়েটে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে এবং অধিকাংশই মানিয়ে নিতে পারে না।

ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের এইসলিং পিগট বলেছেন, ‘জুসের ডায়েট অনেকের কাছে আকর্ষণীয় কারণ এটি তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান করে, কিন্তু এই খাদ্যাভ্যাস সত্যিই কঠিন।’

ফল ও শাকসবজির জুসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন থাকে, কিন্তু প্রোটিন কিংবা ফ্যাট থাকে খুব কম। এমনকি তন্তুজাতীয় পদার্থও কম থাকে, যদি না পুরো ফল খোসা ও বীজসহ জুস না করা হয়।

ইউনিভার্সিটি অব প্লাইমাউথের হিউম্যান নিউট্রিশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. গেইল রিস বলেছেন, ‘এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসে এক সপ্তাহ পরই ক্লান্তি ভর করে।’

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য থাকে না, তা দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর হয় না এবং খুব ক্ষতিকর হয়ে পড়ে একসময়।

খাবার অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করে ডায়েট করলে নারীরা রক্তস্বল্পতা ও সবার ক্ষেত্রে পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হৃদপিন্ডও এক ধরনের পেশী। শারীরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তখন ফুসফুস ও লিভারের মতো পেশীগুলোকে বাড়তি কাজ করতে হয়। ফলে তার ওপর চাপ পড়ে।

অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথা ব্যাথা, ঝিমুনি ভাব এবং চরম ক্লান্তি। এছাড়া ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে।

প্রাকৃতিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফলের জুস দাঁতের এনামেলের ক্ষয় করে এবং ক্যালরির অভাবে গন্ধেও আসে হালকা পরিবর্তন। তরল খাবার গ্রহণের অভ্যাসের ফলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক হওয়ার পর অতিরিক্ত হারানো ওজন ফিরে পাওয়া।

তারা মনে করেন, ওজন কমাতে এক সপ্তাহের টার্গেট নয়, হতে হবে দীর্ঘ সময়ের। ডায়েটের তালিকায় থাকবে বৈচিত্র ও ভারসাম্যযুক্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার। ফল, শাকসবজি, দানা শষ্য, বিনস, বাদামজাতীয় খাবার খেতে হবে, পাশাপাশি ব্যায়ামও করতে হবে।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়