ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মৃত্যু দেখে ফেরা নিহাদুজ্জামানের সামনে অমিত সম্ভাবনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১৫:০২, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
মৃত্যু দেখে ফেরা নিহাদুজ্জামানের সামনে অমিত সম্ভাবনা

মাঠে নামলেই যার ব্যাটে রানের ফোয়ারা, চার-ছক্কার বৃষ্টি; তাকে ২ রানে থামিয়ে দেওয়া কাজটা মোটেও সহজ না। নিহাদুজ্জামান সেই কঠিন কাজটা করেছেন চোখের পলকে। জানতেন সাকিব আল হাসান ‘ম্যাচ-আপ’ পেয়ে স্লগ করবেন। স্লটে পেলেই বল উড়াবেন। তাই নিজের মতো করে পরিকল্পনা সাজিয়ে তাকে থামান এ স্পিনার।  

হাওয়ায় ভাসানো বল একেবারে উইকেটের গোড়ায়। ফুলটস বানিয়ে খেলতে গিয়ে সাকিব বল মিস করে বোল্ড। সাকিবের পর এক স্পেলেই তার শিকার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, চতুরঙ্গ ডি সিলভা ও ইফতিখার আহমেদ। মাহমুদউল্লাহ ও চতুরঙ্গকে এগিয়ে আসতে দেখে আর্ম বল করে স্টাম্পড করান। ইফতিখারকে উল্টো বল করে ভেতরে ঢুকিয়ে বোল্ড। 

আরো পড়ুন:

শিশিরভেজা উইকেটে ১৭ রানে ৪ উইকেট বিশাল প্রাপ্তি। দল হেরেছে বলে নিহাদুজ্জামানের আনন্দ কিছুটা ম্লান। তবে নিজের সাফল্যে উদ্ভাসিত এ ক্রিকেটার নিজের পরিকল্পনা, লক্ষ্যে পৌঁছে খুশি, ‘ওদের দলের মূল যে ব্যাটসম্যান আমি মনে করি... সাকিব ভাই খুব ভালো ফর্মে ছিল। সঙ্গে ইফতিখার। ওরা দুজনই খুব ভালো ব্যাটসম্যান। ইচ্ছা ছিল যদি দুজনের উইকেটটা পাই খুব ভালো হবে।’ 

‘সাকিব ভাইয়ের উইকেটটা প্রিয়। ওটা বড় উইকেট। আমার পরিকল্পনা ছিল সাকিব ভাই যেন আমাকে চার্জ করে মারতে না পারেন। এই কারণে সফলতা পেয়েছি। আমি গোড়ায় বলটা করতে চেয়েছিলাম। ভালো খেললেও যেন একই হয়।’- যোগ করেন ২৪ বছর বয়সী স্পিনার। 

নিহাদুজ্জামান এখন যে জীবন কাটাচ্ছেন তা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া বিশেষ উপহার। ২০১৫ সালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রায় দেখে ফেলেছিলেন যুব ক্রিকেটার। জাতীয় লিগের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হন নিহাদুজ্জামান। তার মাথার পেছন দিকে সেলাই লেগেছে ছয়টি, কপালে দুটি ও বাঁ ভ্রুতে আরো চারটি। একটুর জন্য হারাননি চোখ। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় তার জীবন থেকে চলে যায় দুই বছর। 

এরপর মাঠে ফিরে আবার ফিল্ডিং করতে গিয়ে ভাঙেন হাত। সেই হাত জোড়া লাগতে গিয়ে আবার এক বছর পিছিয়ে যান। এরপর কোভিডের ধাক্কা। তার এক সময়কার সতীর্থ লিটন, মোসাদ্দেক, মোস্তাফিজরা জাতীয় দলে খেলছেন। সেখানে নিহাদুজ্জামান এখনও পায়ের নিচে জমিন খুঁজছেন। গত বছর ঢাকা লিগ ও এবারের জাতীয় লিগ দিয়ে মাঠে ফিরে নিজের জীবন নতুন করে সাজাচ্ছেন। এবারের বিপিএল তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ৫ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে ভালো অবস্থানে আছেন। 

প্রতিকূল সময় কাটিয়ে সুসময়ের অপেক্ষায় এ স্পিনার। নতুন এ জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে চান তরতর করে, ‘আমি খুব ভালো প্ল্যাটফর্মে ছিলাম। ছোটবেলা থেকে, অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯... বিশ্বকাপও খেলেছি, এইচপিতে ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার জীবনে পরপর কয়েকটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। চোটেও পড়েছি আমি। আমার বাঁহাত ভেঙে গিয়েছিল। অ্যাকশন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। আমি আমার জীবনের খুব বাজে সময় পার করেছি।’

অনেক পরিশ্রমের সুফল পাচ্ছেন নিহাদুজ্জামান, ‘বোলিং ভালো হয়েছে। শেষ দুই বছর আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। নিজে নিজে পরিকল্পনা করে বোলিং করেছি, কখন পাওয়ার প্লেতে বোলিং করবো, কখন স্লগ ওভারে বোলিং করবো, কখন মিডল ওভারে বোলিং করবো। ওভাবে নিজেকে তৈরি করেছি। সাদা বলে অনুশীলন করেছি। যা চেষ্টা করেছি তা হয়েছে।’

সিলেট/ইয়াসিন/রিয়াদ/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়