‘অ্যাটাকিং ক্রিকেট তামিমকে দিয়ে শুরু হয়’ -স্মৃতিচারণায় প্রথম অধিনায়ক বাশার
সাইফুল ইসলাম রিয়াদ, চট্টগ্রাম থেকে || রাইজিংবিডি.কম
‘সিরিজের আগে চট্টগ্রাম থেকে তামিম ইকবাল আমাকে ফোন করে। আসছি কী না জিজ্ঞেস করে। আমাকে নিয়ে খেতে যাবে তাই। কিন্তু কলম্বো যাবো এ জন্য আমি চট্টগ্রাম যাইনি। এখনতো অবসর নিয়ে নিলো। আমি সারপ্রাইজড। ভীষণ সারপ্রাইজড’ -তামিমের অবসর নিয়ে কলম্বো থেকে মুঠোফোনে রাইজিংবিডিকে এভাবেই বলছিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
ইমার্জিং দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন বাশার। তামিমের সংবাদ সম্মেলন দেখেছেন লাইভে। এরপর থেকে তিনি যেন কিছু ভাবতেই পারছেন না। বাশার শুধু নির্বাচকই নয়, এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তামিমের পথচলা শুরু হয় তার নেতৃত্বে। বাশারের কাছে বিষয়টা আরও কষ্টের। তার নেতৃত্বে শূন্য থেকে শুরু করা তামিম পৌঁছে যান শীর্ষে, নামের পাশে তকমা লাগে দেশসেরা ওপেনার।
সেই তামিমের এমন বিদায়ে মন খারাপ বাশারের। কোনো কাজে মন বসছে না। তিনি ভাবতেই পারেননি এভাবে খেলাকেই বিদায় জানিয়ে দেবেন তামিম। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় তামিমের। একই বছর বিশ্বকাপে ভারত-বধের অন্যতম নায়ক তামিম। আগ্রাসী খেলে তখনকার তরুণ তামিম নাম কুড়িয়েছেন বিশ্বজুড়ে।
বাশার শুরুর সময়টা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আগ্রাসী খেলাটাই শুরু হয় তামিমকে দিয়েই, ‘ও যখন বাংলাদেশ টিমে আসছে ওপেনিংয়ে আমাদের খেলার ধরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। আমরা আগে ডিফেন্সিভ খেলতাম। তামিম এসে ডমিনেটিং খেলা শুরু করে। জহির খানকে মারা সেই ছয়তো ট্রেডমার্ক শট ছিল। অ্যাটাকিং ক্রিকেট তামিমকে দিয়েই শুরু হয়েছিল। ওই ছয়টা বলা যায় সিগনেচার শট। আমরা আগে কমবেশি ভালো-মন্দ খেলছি, কিন্তু ডোমিনেটিং ক্রিকেট তামিমদের দিয়েই শুরু হয়েছে।’
এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। ওপেনার-ব্যাটসম্যান থেকে চার বছর আগে তামিম বনে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক। আর বাশার দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচক হিসেবে আছেন। লম্বা সময় ধরে এভাবে বাংলাদেশকে সার্ভিস দেওয়ায় বাশার কৃতিত্ব দিচ্ছেন তামিমকে।
প্রায় দেড় যুগের ক্যারিয়ারে তামিম খেলেছেন ৭০টি টেস্ট, ২৪১টি ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি। রান করেছেন যথাক্রমে ৫১৩৪, ৮৩১৩ ও ১৭৫৮ রান। জানান, বাংলাদেশের অন্যতম গ্রেটেস্ট ক্রিকেটার এই বাঁহাতি ওপেনার।
বাশার বলেন, ‘এত লম্বা সময় ধরে ওপেনিংয়ে ব্যাট করা কঠিন একটা কাজ। সে এটা ভালোভাবেই করেছে। সে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অন্যতম গ্রেটেস্ট ক্রিকেটার।’
প্রথম অধিনায়ক, সতীর্থ কিংবা বড় ভাই হিসেবে তামিমকে কোনো পরামর্শ দেবেন বাশার? এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ থমকে থাকেন সাবেক অধিনায়ক। জানান, আরও দেখতে চান তারপর নাহয় পরামর্শ দেবেন।
‘ওর সঙ্গে আমার সবসময় কথা হয়। আনুষ্ঠানিক কথার চেয়ে অনানুষ্ঠানিক কথা বেশি হয়। আমাদের সম্পর্কটা আসলে অন্যরকম ছিল। আমি এই সময়ে পরামর্শের বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি আরও দেখতে চাই। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমি এখন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
ঢাকা/আমিনুল