নিজেদের পাতা ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে নাতো ভারত!
নাভিদ হাসান || রাইজিংবিডি.কম
“সব শেষ দুবার আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে আইসিসির আসরে প্রথম ম্যাচ খেলেছি। ২০১১ ওয়ানডে এবং ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দুবারই শিরোপা জিতেছি আমরা। ওদের বিপক্ষে শুরু হলে টুর্নামেন্টটা ভালো যায় আমাদের। এবারও আশা করি সেটাই হবে”- কথাগুলো ভারতের বিখ্যাত ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির। তবে কি এই ৩৬ বছর বয়সী ক্রিকেটার বেমালুম ভুলে গিয়েছেন ২০০৭ বিশ্বকাপের কথা? নাকি ভুলে থাকার অভিনয় করছেন?
একটা সময় ছিল যখন পাকিস্তান-ভারত ম্যাচই উত্তাপ ছড়াত ক্রিকেট বিশ্বে। সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই লড়াই কেবল নামেই চলছে। ক্রিকেটের আসল মহারণটা বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচেই বিদ্যমান। সুদীর্ঘ ৮ বছর পর মাঠে গড়ানো আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচেই আজ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে দুপুর তিনটায়; দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
টাইগার ফ্যানদের মুখে-মুখে একটা কথাই ঘুরছে দলের শেষ ৬ মাসের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে; এই বাংলাদেশ কি হারাতে পারবে ভারতকে? যুক্তি আর পরিসংখ্যানে চোখ রেখেই সেই আলোচনা করা যাক।
এই দুই দল এখন পর্যন্ত ৪১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ভারতের ৩২ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় ৮টি; অন্যদিকে ফলাফল আসেনি এক ম্যাচের। তবে সবশেষ ৫ দেখায় ৩টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। যার মাঝে একটি আবার এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। সুতরাং বাংলাদেশ কেবল ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে জেতে সেই আলাপ ঘোপে টিকবে না। বাংলাদেশের জয়টাও তাই অসম্ভব কিছুই না।
দুই দলের জন্যই ইনিংসের প্রথম দশটা ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেকে বদলে ফেলে, শেষ এক বছর ওয়ানডেতে প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করছেন। রোহিতের উইকেটটা তাই দ্রুত তুলে নেওয়ার সুযোগও থাকছে বেশি। চতুর্থ স্টাম্প থেকে একটু খাটো লেন্থের ইনসুইং ডেলিভেরিতেই তিনি উইকেট দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের কোয়ালিটি পেস ইউনিট তাই রোহিতকে ফেরাতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলেই ধারণা করা যায়। তবে রোহিত ১০ ওভার টিকে গেলে ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের হাত থেকে বের করে নিবেন।
অন্যদিকে বিরাটও ভালো পেসের বিপক্ষে পঞ্চম স্টামের বলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাই পেসারদেরই দায়িত্ব এই মহাতারকাকে সাজঘরে ফেরাবার। এই ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এক হাজার থেকে আর ৮৪ রান দূরে।
তবে শুভমান গিল, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুল এবং হার্দিক পান্ডিয়াদের নিয়ে গড়া ভারতের মিডল অর্ডার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিনাররা কেমন করেন সেটাই দেখার বিষয়। বোলারদের মূল লড়াইটা এখানেই।
আজকের ম্যাচ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ৩৫টি ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে। যেখানে প্রথম ইনিংসের গড় হচ্ছে ২১৩ রান। কেবলমাত্র দুইবারই তিনশর বেশি রান হয়েছিল। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, স্পিন একটা বড় ভূমিকা পালন করবে এই উইকেটে। অন্যদিকে ভারতীয় স্কোয়াডে আছে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। আর এটা তো অজানা না যে, আইসিসি যেকোনো বৈশ্বিক আসতরেই ভারতের কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পায়। তাই সকল সমীকরণ এবং পরিসংখ্যান টেনে মনে হচ্ছে, আজ স্কিটি এবং স্লো উইকেটই হবে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই।
তবে প্রতিপক্ষের জন্য মরণ ফাঁদ পেতে ভারত নিজেই তাতে হোঁচট খেতে পারে। ভারত ঘরের মাঠে এমন উইকেটে খেলে, যেখানে রানের ছড়াছড়ি। তাই স্পিনিং কিংবা স্লো উইকেটে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেনি নিকট অতীতে। সবশেষ শীলঙ্কার এবং নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আলাদা দুই সংস্করণে গিল-শ্রেয়াসদের সেই দুর্বলতা ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশি স্পিনাররা সেই সুবিধাটুকু কাজে লাগাতে পারবেন কি না সেটা সময়ের উপর ছেড়ে দেওয়া যাক। আজ বাংলাদেশের স্পিন বিভাগকে নেতৃত্ব দিবেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। তার সঙ্গে 'স্পিনে জুটি বাঁধা'র সম্ভাবনা বেশি নাসুম আহমেদের। অন্যদিকে এই পিচে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান অসম্ভব কার্যকরী ভূমিকা পালন করবেন। তবে ঐতিহ্যগতভাবে দুবাইয়ের উইকেটের যে চরিত্র, তাতে বাংলাদেশ ম্যানেজম্যান্ট হয়তো রিশাদ হোসেনকে খেলাতে চাইবে না।
টাইগার ব্যাটিংয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন তানজিদ হাসান তামিম। এই ব্যাটসম্যানের মূল সমস্যা, গুড লেন্থ থেকে একটু পেছনে পড়ে লাফিয়ে উঠা বলে। জাসপ্রীত বুমরাহরা অনুপস্থিতিতে জুনিয়র তামিমকে সেই অস্বস্থিতে ফেলতে পারার বোলার কম ভারতের। বাংলাদেশ একাদশটা মোটামোটি জানা। তবে তাওহীদ হৃদয় নাকি জাকির আলী অনিক খেলবেন তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা।
অন্যদিকে ভারতের প্রথম ৬ ব্যাটসম্যান ডানহাতি। তাই প্রয়োজনে অক্ষর প্যাটেল কিংবা রবীন্দ্র জাদেজা একটু উপরের দিকে ব্যাট করতে পারেন। ভারত ঋষভ পান্থের পরিবর্তে লোকেশ রাহুলকেই খেলাবে। অন্যদিকে স্পিনে কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে ‘রহস্যময় স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তী খেলতে পারেন।
ঢাকা/নাভিদ
২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৭