ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অশ্রুসিক্ত বিদায় শামসুরের

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫  
অশ্রুসিক্ত বিদায় শামসুরের

সরে যাওয়ার ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন শামসুর রহমান শুভ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শেষ ম্যাচ খেলবেন তিনি। দিনটা যখন চলেই এল, ক্যারিয়ারের শেষ প্রথম শ্রেণির ইনিংসটি যখন খেলেই ফেললেন তখন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি শামসুর।

বরিশাল বিভাগের হয়ে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে ১৭ রানে আউট হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন তখন কান্নায় ভিজে যায় তার মুখ। নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষটা হয়ে থাকল আবেগঘন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় ২১ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। নিজ দল ও প্রতিপক্ষ তাকে দিয়েছে সম্মান। মাঠে নামার আগে তাকে ব্যাট উঁচিয়ে গার্ড অব অনার দেয় বরিশাল বিভাগ। দুই পাশে সারি বেধে দাঁড়িয়ে সতীর্থরা। তাদের মধ্য দিয়ে মাঠে প্রবেশ করলেন শামসুর। ‘গার্ড অব অনার’ পাওয়ার পালা তার শেষ নয় সেখানেই। মাঠের ভেতরে পিচের কাছে একইভাবে দুই পাশে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ সিলেট দলের ক্রিকেটাররাও তাকে সম্মান জানান।

আউট হওয়ার পর প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা এসে বুক চাপড়ে দেন। কেউ করদর্মন করেন। কেউ আলিঙ্গন করেন। মাঠের বাইরে থেকে সবাই তালি দিয়ে বিদায় দেন এই ক্রিকেটারকে।

২০০৫ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পথ চলা শুরু শামসুরের। বিসিবি একাদশের হয়ে খেলেছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেই শুরু এরপর লাগাতার খেলেই গেছেন। সব মিলিয়ে ২১ বছরে ১৬০ ম্যাচে ৩৬.২৩ গড়ে ৯ হাজার ৬০২ রান করেছেন তিনি। যেখানে সেঞ্চুরি আছে ২৩টি। ফিফটি ৪৬টি। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ২৬৭। খেলেছিলেন ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে।

জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬ টেস্ট। ১২ ইনিংসে রান করেছেন ৩০৫। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু পরের নয় ইনিংসে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস একটাও না থাকায় আর সুযোগ হয়নি তার। ২০১৪ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর তার দিকে আর ফিরেও তাকায়নি নির্বাচকরা।

দিনের খেলা শেষে শামসুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আজ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শেষ ইনিংসটি খেললাম। জানি না কতটা অর্জন করতে পেরেছি। তবে সবসময় চেষ্টা করেছি নিজের প্রতি সৎ থাকতে। জানি, আর কখনো সাদা পোশাক গায়ে চাপিয়ে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে পারব না। একজন খেলোয়াড়ের জন্য মুহূর্তটি বেদনাদায়ক। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

এরই মধ্যে আম্পায়ারিং ও ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কোর্স করেছেন শামসুর। সামনেও ক্রিকেটের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা তার।

ঢাকা/ইয়াসিন/রাজীব

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়