ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘সুবিচার পাইনি, ভারতে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক আছে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৯:৫১, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
‘সুবিচার পাইনি, ভারতে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক আছে’

বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। হয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করো, নয় তো বিদায়। বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। নিরাপদবোধ অনুভব না করায় ভারতে কোনোভাবেই বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়।

কিন্তু আয়োজক শ্রীলঙ্কা বাড়তি দলের আয়োজন এই মুহূর্তে করতে পারবে না সেটাও তারা জানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আইসিসিরও আগ্রহ কম ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার। কারণ আইসিসির সাফ কথা, ‘‘ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।”

আরো পড়ুন:

এজন্য ভেন্যু পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। এছাড়া আইসিসির বোর্ড সভাতেও বাংলাদেশের অনুরোধ তলিয়ে গেছে। বাংলাদেশ নিজের ভোট বাদে মাত্র একটি দেশের ভোট পেয়েছে। মোট ১৬টি দেশের ভোটের ১৪টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে সাম্ভাব্য দুইটি পথ খোলা ছিল। এক, আইসিসির ওপর বিশ্বাস রেখে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা। দুই, ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান। বাংলাদেশ সরকার সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতে দল পাঠাবে না। গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটের অনেক বড় একজন ভক্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে লিটন আছে, মিরাজ আছে, নাজমুল আছে, সোহান, তামিম- সবারই ভক্ত। তো স্বভাবতই আমরা সবাই চেয়েছি, আমরা যেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে পারি, আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা এটা কষ্ট করে অর্জন করেছে।’’

‘‘কিন্তু, আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনার থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা প্লেয়ারকে, উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে ভারত থেকে বের করে দিয়েছে- সোজা কথা, বের করে দিতে বলেছে।’’

আইসিসির উপর ভরসা নেই দাবি করে আসিফ নজরুল যোগ করেন, ‘‘আইসিসি আমাদেরকে যতই বলুক নিরাপত্তা আশঙ্কা নেই, আইসিসি নামে তো আলাদা কোনো দেশ নাই। যেই দেশে আমার একটা ক্রিকেটার নিরাপত্তা পায়নি এবং যে দেশে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সরকারের একটা বর্ধিত অংশ, তারাই আমার ক্রিকেটারকে উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহা হয়েছে। ব্যর্থ বা অনীহা হয়েছে; সেই দেশেই খেলা হচ্ছে। সেই দেশের পুলিশ, সেই দেশের সিকিউরিটি এজেন্সিরই দায়িত্ব হবে ক্রিকেটারদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া।’’

‘‘তাহলে ওই ঘটনার পরে কী এমন চেঞ্জ হয়েছে ভারতের, যে আমরা ভাবতে পারব ভারতে আবার কোনো উগ্রবাদী আস্ফালন হবে না। এবং ভারত আমাদেরকে, মুস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই, তো আমাদের ক্রিকেটারদের, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? এটা আমরা কিসের থেকে কনভিন্সড হব?’’

আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ গত শনিবার ঢাকায় বিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইভেন্টস অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও। তাদের আলোচনা ও প্রস্তাবগুলো সন্তোষজনক মনে হয়নি আসিফ নজরুলের, ‘‘আমাদেরকে এই বিষয়ে কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টা করেনি। আইসিসি আসল যে ঘটনা, সেটাকে বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড যে সিকিউরিটি প্রসিডিউর, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। যেখান থেকে গ্রিভেন্সটা , সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি কোনো স্টান্স নেয়নি ঠিকমতো। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের কনভিন্স করানোর চেষ্টা করা হয়নি। যে ঘটনাটা ঘটেছে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে, ‘এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বা ‘আমরা এটার জন্য সরি’, ‘আমরা এই এই ব্যবস্থা নিচ্ছি তোমাদের দর্শক, তোমাদের সাংবাদিক, তোমাদের খেলোয়াড়দের জন্য’, তারা কোনোরকম যোগাযোগের চেষ্টা করেনি।’’

‘‘ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনোরকম স্কোপ নাই। আমরা মনে করি আমরা আইসিসির থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা এখনও আশা করব, আইসিসি সুবিচার করবে। আমাদের বিশ্বকাপ খেলার যে অধিকার, যেটা শ্রীলঙ্কাতে আমাদের খেলার সুযোগ রয়েছে। এরকম বহু নজির পৃথিবীতে আছে যে, অন্য একটা ভেন্যুতে সিকিউরিটি রিস্কের কারণে খেলা হচ্ছে। আমাদের এখানে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক আছে। আমরা এখনও আশা ছাড়িনি। আমরা আশা করব আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কটা সুবিবেচনার সাথে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়