ইরানের জিমে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারালেন ২০ নারী ভলিবল খেলোয়াড়
মাঠের লড়াই নয়, এবার প্রাণরক্ষার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি জিমে বোমা হামলায় অন্তত ২০ নারী ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খেলোয়াড়রা অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় জিম। নিহতদের পরিচয় বা তারা কোন ক্লাব বা প্রতিযোগিতায় খেলতেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি। আহতের সংখ্যাও অজানা।
এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে ইরানের পক্ষ থেকে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি প্রায় ১০০ দিন। এমন সময়ে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্র্যাফস্ট্রম জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য নিরাপদ পরিবেশে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা, যেখানে সব যোগ্য দল অংশ নিতে পারবে। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইরানি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ স্থগিত হয়েছে।
আবুধাবিতে চলমান পাকিস্তান শাহীন্স ও ইংল্যান্ড লায়ন্সের সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচও মাঠে গড়ায়নি। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড নারী দলের প্রস্তুতি শিবির পিছিয়ে দিয়েছে। ১৩ মার্চ থেকে আরব আমিরাতে শুরু হওয়ার কথা থাকা আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ এখন অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমসহ বহু খেলোয়াড় দুবাই, দোহা ও আবুধাবির বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। টেনিস তারকা দানিল মেদভেদেভ দুবাইয়ে অবস্থান করছেন, দোহায় রয়েছেন হোলগার রুন।
৮ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়ার কথা মোটর রেসিংয়ের নতুন মৌসুম। প্রায় ২০০০ সদস্যের দল দুবাই বা দোহা হয়ে যাতায়াত করার পরিকল্পনায় ছিল। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়তে পারে। এপ্রিল মাসের বাহরাইন ও সৌদি আরব পর্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
২০ তরুণীর প্রাণহানি শুধু একটি দেশের নয়, পুরো ক্রীড়াবিশ্বের ক্ষতি। যখন মৃত্যু সংখ্যা হয়ে ওঠে পরিসংখ্যান, তখন খেলাধুলা গৌণ হয়ে যায়। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- খেলোয়াড়রা কি নিরাপদ?
যুদ্ধের ছায়া যখন ক্রীড়াঙ্গনে ঢুকে পড়ে, তখন গোল, পয়েন্ট বা শিরোপা সবই ম্লান হয়ে যায়। এখন অপেক্ষা শান্তির।
ঢাকা/আমিনুল