ঢাকা     সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩২ || ১২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দাদি-নাতনি হত্যা 

দাদিকে হত্যার পর জামিলাকে ধর্ষণ-হত্যা করে শরিফুল: পুলিশ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২১:৫৩, ১ মার্চ ২০২৬
দাদিকে হত্যার পর জামিলাকে ধর্ষণ-হত্যা করে শরিফুল: পুলিশ

নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।

তদন্ত শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাদি-নাতনি হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রবিবার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় বাসের হেলপার। শরিফুল পুলিশের কাছে হত্যায় জড়িত থাকা ও হত্যার কারণসহ বিস্তারিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানিবন্দি দিয়েছেন। 

আরো পড়ুন:

শরিফুল স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রাব্বি মন্ডলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে জামিলা আক্তার (১৫) এবং তার দাদি সুফিয়া বেগম (৭০) প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে বাড়ির ভেতরে সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত লাশ এবং বাড়ির পেছনে গম ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় জামিলার লাশ পাওয়া যায়। 

নিহত সুফিয়া বেগম উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত নাজিমুদ্দিন খাঁর স্ত্রী। তার নাতনি জামিলা আক্তারের বাবা  জয়নাল আবেদীন। জামিলা উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণির ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। দাদি ও নাতনি একই বাড়িতে থাকত। ওই বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না।

পুলিশ সুপার জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সুফিয়া বেগম তার ছেলে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বসবাস করতেন। জয়নালের স্ত্রী না থাকায় তার মেয়ে জামিলা আক্তার একই বাড়িতে বসবাস করে। জয়নাল ঢাকাতে কাজ করেন। তিনি বাড়িতে না থাকায় জামিলা ও তার দাদি সুফিয়া বেগম সেখানে বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় নিহত সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ঈশ্বরদী থানার মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম। স্থানীয় সোর্স এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত আসামি শনাক্ত করে শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মূলত গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে তদন্ত শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়।

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, সুফিয়া বেগম তার আপন খালা। তিনি তার খালার বাড়িতে মাঝে-মধ্যে যাতায়াত করতেন। যাতায়াতের সুবাদে জামিলা আক্তারের প্রতি তার কু-দৃষ্টি পড়ে। জামিলাকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার দিন শরিফুল রাত ১১টার দিকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে সুফিয়া বেগম বুঝতে পেরে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরিফুল কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি সেখানে মারা যান।

তারপর শরিফুল ঘরের ভিতরে গিয়ে জামিলাকে জড়িয়ে ধরলে সে চিৎকার করে। এ সময় শরিফুল বাঁশের খাটিয়া ও হাতুড়ি দিয়ে জামিলার মাথায় আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় জামিলাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যেতে থাকে। বাড়ির পেছনে পুকুরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় দুজনে পুকুরে পড়ে যায়। তারপর জামিলাকে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার পরনের পায়জামা খুলে যায়। 

পুলিশ সুপার আরো জানান, জামিলাকে গম ক্ষেতের দিকে নেওয়ার পথে জ্ঞান ফিরলে সে চিৎকার করলে শরিফুল আবার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এরপর জামিলাকে গম ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে চলে যায়। সেখানে জামিলার মৃত্যু হয়। 

রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে শরিফুলকে নিয়ে তার দেখানো তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের খাঁটিয়া, একটি কাঠের বাটাম ও শরিফুলের ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দায়েরকৃত মামলায় শরিফুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঢাকা/শাহীন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়