লিঙ্গ নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতাই নির্ধারণ করবে ম্যাচ রেফারি: টাফেল
‘‘ক্রিকেটে ম্যাচ রেফারি হওয়ার জন্য পূর্বের অভিজ্ঞতা কিংবা ভিত্তির প্রয়োজন নেই। ক্রিকেটের লোকই হতে হবে এমন নির্দেশনাও নেই। ক্রিকেটের আইন ঠিকঠাক মতো জেনে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারলেই হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষ এখন এই অঙ্গনে আসছে। তারা ক্রিকেটের ভাষা শিখছে। আইন পড়ছে। পরিবর্তিত ক্রিকেটের সঙ্গে নিজেকে উন্নত করছে।’’- খোলামেলা আলাপে কথা গুলো বলছিলেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল।
লম্বা পথ পেরিয়ে নিয়ামুর রশিদ বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তিনি যে দুয়ার খুলে দিয়েছেন সেখানে এখন পা বাড়িয়েছেন এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ, প্রতিশ্রুতিশীল প্রজন্ম। যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন। কেউ ক্রিকেট খেলেছেন। কেউ খেলেননি। কেউ এই পেশাতেই আছেন। কেউ নেই। পুরুষ ও নারীদের অংশগ্রহণে গত দুদিন ক্রিকেট বোর্ডের ম্যাচ রেফারি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যা পরিচালনা করেছেন আইসিসির রেকর্ড পাঁচবারের ‘আম্পায়ার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জেতা সাইমন টাফেল। অস্ট্রেলিয়ান এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এর আগেও বিসিবিতে আম্পায়ারদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছেন। এবার ম্যাচ রেফারিদের নিয়ে করেছেন কাজ। দুদিনের ট্রেনিংয়ে দারুণ খুশি টাফেল।
সোমবার সমাপণী দিনে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমে। টাফেল জানিয়েছেন, আগামী বছরের ভেতরেই বাংলাদেশ অন্তত ৩৫ জন ম্যাচ রেফারি পেতে যাচ্ছে, ‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্ভাব্য নতুন ম্যাচ রেফারিদের জন্য গত কয়েকদিন ধরে একটি ইনডাকশন কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে। আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, কীভাবে সক্ষমতা বাড়ানো যায় এবং কীভাবে মান আরও উন্নত করা যায়। প্রায় ছয় মাস আগে এই প্রকল্প শুরু করার সময় সবাইকে ধৈর্য ধরতে এবং পুরো প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রাখতে বলা হয়েছিল। আজকের এই কার্যক্রম সেই উন্নয়নের পথচলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে নতুন প্রতিভা খোঁজা এবং তাদের গড়ে তোলার কাজ চলছে।’’
‘‘এবার প্রায় ৩৫ জন সম্ভাব্য নতুন ম্যাচ রেফারিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে শুধু তাদের কাজের দক্ষতা নয়, বরং ব্যক্তিত্ব, সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ ম্যাচ রেফারি হওয়া সহজ নয়, এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা। তারা মূলত আম্পায়ারদের মূল্যায়ন করেন, তাই এ পদে দক্ষ ও যোগ্য মানুষ থাকা অত্যন্ত জরুরি।’’ – যোগ করে টাফেল।
টাফেলের সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন নিয়ামুর রশিদ রাহুল ও বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগের ম্যানেজার অভি। পুরো কার্যক্রম এবং নারী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে টাফেল আলাদা করে কথা বলেছেন, ‘‘অভি, রাহুল এবং বিসিবির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে এই কর্মসূচি পরিচালনা করতে পেরে ভালো লেগেছে। অংশগ্রহণকারীরা খুবই সহযোগিতাপূর্ণ, আগ্রহী ও প্রাণবন্ত ছিলেন, যা পুরো সেশনকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।’’
‘‘নারী অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলা যায়, আন্তর্জাতিক মানের একজন নারী ম্যাচ রেফারি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে আছেন, সুপ্রিয়া রানী দাস। তবে এই কোর্সে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেছেন, যা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। বিসিবি শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে সারাদেশ থেকে প্রতিভা তুলে আনতে চায়, এটিও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে লিঙ্গ নয়, যোগ্যতাই মূল বিষয়, কে কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সামনে তারা কতদূর যাবেন, কোথায় কাজ করবেন তা নিয়ে টাফেল এখনই চিন্তা করতে চান না। দৃষ্টি সীমানার বাইরে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই তারা কাজ করবেন এমনটাই বিশ্বাস করেন অভিজ্ঞ ক্রিকেট অফিসিয়াল।
‘‘শ্রেষ্ঠত্বের কোনো শেষ নেই, এই কথাটার ওপর আমি যথেষ্ট জোর দিতে চাই। শ্রেষ্ঠত্বের কোনো শেষ নেই। আমাদের লক্ষ্য শুধু খেলোয়াড় নয়, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি, স্কোরার সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে দেখা। আমরা সবাই এই খেলাটির অংশ, আমরা যেন ‘তৃতীয় দল’ হিসেবে সর্বোচ্চ মান ধরে রাখতে পারি, সেটাই কাম্য। প্রতিটি ম্যাচ থেকে কিছু শেখা, পরিকল্পনা করা, তা বাস্তবায়ন করা এবং সঠিক ফিডব্যাক নেওয়া, এই চক্রের মাধ্যমেই আমরা এগিয়ে যেতে পারি। প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ বিল আকারে পাসের বিষয়ে ঐকমত্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী