ঢাকা     সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৪ ১৪৩৩ || ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হাসান মুরাদ কেন নেই, খালেদের পরিবর্তে তাসকিন কেন?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬  
হাসান মুরাদ কেন নেই, খালেদের পরিবর্তে তাসকিন কেন?

স্বপ্নের মতোই শুরু হয়েছিল। একাধিক সিরিজে জাতীয় দলে স্কোয়াডে থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয় হাসান মুরাদের। আইরিশদের বিপক্ষে দুই টেস্টে বাঁহাতি স্পিনারের পকেটে ১২ উইকেট। বোলিং গড় ১৭, ইকোনমি ২.৬৩। 

দ্যুতি ছড়ানো পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলের পরের ম্যাচে জায়গা পাবেন এতোটুকু বিশ্বাস নিশ্চিয়ই ছিল তার। কিন্তু ওই বিশ্বাসটাই যেন ভেঙে গেল নির্বাচকদের ‘ট্যাকটিক্যাল’ সিদ্ধান্তে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে তাকে রাখেননি নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

আরো পড়ুন:

শুধু তাই নয়, জাকের আলী, খালেদ আহমেদও বাদ পড়েছেন। রাখা হয়নি হাসান মাহমুদকে। তাদের পরিবর্তে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে এক বছর পর ডাকা হয়েছে। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল হাসান ফিরেছেন স্কোয়াডে। স্কোয়াডে একেবারেই নতুন মুখ অমিত হাসান। সীমিত পরিসরের পর প্রথমবার ডাক পেয়েছেন তানজিদ হাসান।

প্রত্যেককে নিয়েই সোমবার নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

শুরুতে হাসান মুরাদকে নিয়ে বলেছেন, ‘‘ট্যাকটিক্যাল, অ্যাবসলিউটলি ট্যাকটিক্যাল কারণ। পারফরম্যান্সে কোনো ইস্যু ছিল না কারণ হাসান মুরাদ শেষ সিরিজে খুবই ভালো বল করেছে। কিন্তু পাকিস্তানের দলটির দিকে যদি তাকান, সেখানে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি। এজন্য হাসান মুরাদের থেকে নাঈম হাসানের সুযোগ বেশি থাকবে। ফর্মের কারণে সেব বাদ পাড়েনি। এটা ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত।’’

ইনজুরি থেকে ফেরা হাসান মাহমুদকে নিয়ে হাবিবুল বলেছেন, ‘‘হাসান মাহমুদ এই টেস্ট সিরিজের জন্য বিবেচনায় নেই। আমাদের ফিজিওর রিপোর্ট অনুযায়ী, সে এখনো পুরোপুরি ফিট হয়নি। ইনজুরি থেকে ফিরে বোলিং শুরু করলেও এখনও ১০০ শতাংশ দিতে পারছে না। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ ফিট। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, এই সিরিজে তাকে খেলানো সম্ভব নয়। বিসিএলেও সে অংশ নেয়নি। আমরা চাই সে আগে কিছু ম্যাচ খেলে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাক, কারণ টেস্ট ক্রিকেটে সম্পূর্ণ ফিট থাকা অত্যন্ত জরুরি।’’

পেসার খালেদ আয়ারল‌্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকায় ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। তাকে এবার রাখেনি নির্বাচকরা। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ফিরেছেন ২০২৪ সালের পর। পেস আক্রমণ নিয়ে হাবিবুল বলেছেন, ‘‘তাসকিন মূলত অটোমেটিক চয়েস। আমাদের আলোচনাটা বেশি হয়েছে ইবাদত আর খালেদকে ঘিরে। তাসকিন, রানা আর শরিফুলকেও আমরা দেখতে চাই, কারণ সে টেস্টে ভালো করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অপশন।’’

‘‘ইবাদত ও খালেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেখা গেছে, খালেদ লাইন-লেন্থ খুব ভালো ধরে রাখতে পারে। অন্যদিকে ইবাদত বেশি আক্রমণাত্মক এবং উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা বেশি। তাই আমরা সেই দিকটাই প্রাধান্য দিয়েছি। তবে খালেদও ভালো বোলিং করেছে।’’

‘‘তাসকিনের ফিটনেস নিয়ে বলতে গেলে, সে পুরোপুরি ফিট। টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুত। এমন রিপোর্টই আমরা পেয়েছি। যদিও সে দীর্ঘদিন লংগার ফরম্যাট খেলেনি, কিন্তু যখনই খেলেছে, ভালো করেছে। এই মুহূর্তে সে তার সেরা অবস্থাতেই আছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে তাসকিনকে রোটেশন করে খেলানো। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট; সব ফরম্যাটেই ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে ব্যবহার করা হবে। তাসকিন নিজেও খেলার জন্য খুব আগ্রহী। সে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটিও খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু যেহেতু তাকে টেস্ট পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে, তাই ওই সিরিজে রাখা হয়নি। সব মিলিয়ে, তাসকিন ফিট এবং খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’’ - যোগ করেন তিনি।

নতুন মুখ তানজিদ হাসান ও অমিতকে নিয়ে বড় আশা হাবিবুলের, ‘‘আমরা যখন কোনো খেলোয়াড় নির্বাচন করি, তার খেলার ধরন বিবেচনা করেই করি। যাকে নেওয়া হচ্ছে, আমরা চাই সে সেই স্টাইলেই খেলুক (তানজিদ)। দল কীভাবে খেলবে, সেটা পরে ঠিক করা হবে, তবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাইলে সেই মানসিকতার খেলোয়াড় দরকার- এটা আমাদের পরিকল্পনারই অংশ। অমিতের ক্ষেত্রে- সে হয়তো দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলেনি, কিন্তু এনসিএলে নিয়মিত রান করেছে। সব সময় সবাই রান করবে না, এটা স্বাভাবিক। তার প্রতি আমাদের আস্থা আছে বলেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সে উচ্চ পর্যায়েও ভালো পারফর্ম করবে।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়