ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সত্যি হলো লঙ্কা শঙ্কা!

উদয় হাকিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০১ ৩:১৪:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-০১ ১:০৯:৫৫ পিএম

উদয় হাকিম, কলম্বো (শ্রীলঙ্কা) থেকে:  প্রথম ওয়ানডেতে ৯১ রানের হার। দ্বিতীয় ম্যাচে হার ৭ উইকেটে। এরপরই হেড লাইন হয়েছিলো লঙ্কা ওয়াশের শঙ্কা! তিন ওয়ানডের সিরিজে শেষ ম্যাচে বুধবার বাংলাদেশ হারলো আরো বাজে ভাবে, ১২২ রানে! সত্যি হলো লঙ্কা শঙ্কা।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে পাশেই বসেছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক কর্মকর্তা।  তিনি বললেন, হোয়াইট ওয়াশ না বলে একে ‘ব্ল্যাক ওয়াশ‘ বলা উচিত!

একজন বাংলাদেশী হিসেবে, বাংলাদেশ দলের একজন ভক্ত হিসেবে ব্যক্তিগত কিছু ক্ষোভ আক্ষেপ তো থাকবেই। সেই থেকে মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপের ওই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা বরং বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েই ভালো হয়েছে। না হলে হয়েতা আরেকটা পরাজয় লেখা হয়ে যেতো।

বুধবার প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিং করলো বাংলাদেশ। ২৯৪ রান তুললো শ্রীলঙ্কা। অথচ শুরুটা ভালোই হয়েছিলো টাইগারদের। আর্লি একটা উইকেটও পড়েছিলো। রানের দিক থেকেও চাপের মধ্যে ছিলো। কিন্তু নির্বিষ বোলিং এবং দৃষ্টিকটূ বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে সহজেই উতরে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষমেশ তারা ২৯৪ রানের মতো বিশাল স্কোর জমা করে।

বিশ্বকাপের পারফরমেন্সের কথা বিবেচনা করলে ওই রান তেমন কঠিন কিছু ছিলো না। কিন্তু একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন ব্যাটসম্যানরা। মনে হচ্ছিলো বাড়ি যাওয়ার ভীষণ তাড়া!

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় প্রেস বক্সে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকরা আফসোস করছিলেন! একটা জয় নিয়েও ফিরতে পারলেন না তারা। কয়েকজন বললেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং দেখেছেন, এখন দেখেন শ্রীলঙ্কার। কী পার্থক্য? বডি ল্যাংগুয়েজ। ফিল্ডিং, বোলিং এ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দেখে মনে হয়েছে জেতার কোনো ইচ্ছে নেই তাদের! আর ব্যাটিংয়ে? বাড়ি যাওয়ার তাড়া! তাঁদের মতে, এই সফরে না আসলেই ভালো হতো। দাওয়াত দিয়ে এনে পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিলো তারা!

 

খেলা শেষে দেখা হলো কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে। জিজ্ঞেস করলেন, ভাই কেমন আছেন? উত্তর দিলাম ভালো নেই। পরে আর প্রশ্ন করলেন না। যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসি তারা এ অবস্থায় ভালো থাকতে পারি না। একটি বিষয় বড় দৃষ্টিকটূ লেগেছে প্রেজেন্টেশন সিরিমনিতে। লাইন ধরে অনেকগুলো পুরষ্কার, নানা ক্যাটাগরি। একটাতেও বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়কে রাখে নি তারা। অন্তত লাস্ট ম্যাচে স্মার্ট প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ দিতে পারতো সৌম্যকে। প্রসঙ্গ তুলতেই কোচ বললেন, এতো খারাপ করেছি যে..।

আম্পায়ারিংও শতভাগ ভালো লাগেনি। পারলে ওরা আম্পায়ারসহ ১৩ জন নিয়ে খেলে! আগের সফরেও দেখেছি; বিশেষ করে বাংলাদেশীদের ওরা সহ্যই করতে পারে না! খেলা শেষে তামিমকে দেখলাম হাথুরুসিংয়ের সঙ্গে আলাপ করছেন। আলাপ না করে যদি জেদটা পুষতে পারতাম মনে!

সাকিব আল হাসান আর লিটন দাসের জায়গা এ সিরিজে কেউ পূরণ করতে পারেন নি। বলার মতো রান পেয়েছেন মুশফিক। একটা করে ম্যাচে রান পেয়েছেন সৌম্য, সাব্বির আর মিরাজ। বাকিরা ব্যর্থ। অধিনায়ক তামিমের রান তিন ইনিংসে ০, ১৯, ২। রিয়াদের তিন ইনংসে রান ৩, ৬, ৯! বিশেষ করে রুবেল এবং শফিউল- বার বার ব্যর্থ হলেও একের পর এক সুযোগ পেয়ে গেছেন। বল, ব্যাট এবং ফিল্ডিং- সবখানে ব্যর্থ! রান খরচের দিক দিয়ে তারা ছিলেন দারুণ উদার!

মনে পড়ছে দেরাদুনের কথা। আফগানিস্তানের সঙ্গে সবগুলো ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ। কলম্বোতেও তাই! দলে বোধহয় ব্যাপক পরিবর্তন জরুরী। পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখনই শুরু করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা শিগগিরই একটা জয় চাই আমাদের। জয়ই পারে সব বদলে দিতে। সমালোচনা পরিণত হতে পারে প্রসংশায়। পারে খারাপ সময়কে মুছে দিতে।

ফরহাদ রেজার জন্য ব্যক্তিগত দু:খগাঁথা :

তিনি অলরাউন্ডার। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত দু বছর ধরে খেলছেন দুর্দান্ত। রানও পেয়েছেন, পেয়েছেন উইকেটও। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে সফল হয়েছেন। আছে ভালো নেতৃত্ব গুণও। সবশেষ আয়ারল্যান্ড সফরে ছিলেন দলের সঙ্গে। খেলা হয়নি একটা ম্যাচও। ত্রিদেশীয় সিরিজে আশা ছিলো অন্তত দুর্বল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে জায়গা হবে। হয় নি। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরও কাটালেন সাইড বেঞ্চে বসে। তিনটি ম্যাচেই মনে হয়েছে একজন বোলার, একজন ব্যাটসমস্যান কম খেলছেন বাংলাদেশ দলে! সব পেসাররা যখন একের পর এক ব্যর্থ, ব্যাটসম্যানরা যখন প্রায় সবাই ব্যর্থ; তখনো বোলার, ব্যাটসম্যান- অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজার জায়গা হলো না দলে!


** লঙ্কা ওয়াশের শঙ্কা

** ফরহাদ রেজার অভাব বোঝা গেল প্রথম ওয়ানডেতে

** শ্রীলঙ্কায় সব ছাপিয়ে নিরাপত্তা এবং বৃষ্টি

 

রাইজিংবিডি/কলম্বো (শ্রীলঙ্কা)/১ আগস্ট ২০১৯/উদয় হাকিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন