ঢাকা, শুক্রবার, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

সাড়ে ৮ বছরে অর্ধশত বার আদালতে যান খালেদা জিয়া

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৮ ৮:০০:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-২১ ৩:০১:০৩ পিএম

মামুন খান : সরকার প্রধান হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির একটি মামলায় বিচার শেষ হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামের এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- প্রদান করেছেন আদালত।

এছাড়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারদ- দেয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের কয়েকটি মামলায় বিচারকাজ শেষ হয়ে রায় হয়েছে।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে কয়েকটি মামলায় রায় ঘোষিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিলুপ্ত দুর্নীতি ব্যুরো তার বিরুদ্ধে ২৮টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোর মধ্যে নয়টি মামলা বিচারে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারে নিষ্পত্তিকৃত তিনটি মামলায় সাক্ষ্য-প্রমানে তার যথাক্রমে পাঁচ, তিন ও তিন বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়। দন্ড হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে জনতা টাওয়ারের নামে জমি বরাদ্দে দুর্নীতি মামলায় তিনি পাঁচ বছর সাজা ভোগ করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নয়টি এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ছয় মামলা হয়। মামলাগুলোতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্য-প্রমান শুরু হওয়ার আগেই ওই সব মামলা বাতিল করে হাইকোর্ট তাকে অব্যাহতি দেন।

অন্যদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সাল হতে ২০০১ সালের মধ্যে তিনটি দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। মামলাগুলো হলো- এয়ার বাস ক্রয়ে দুর্নীতি, গৃহসজ্জায় দুর্নীতি এবং পুলিশের এস আই নিয়োগে দুর্নীতি। মামলাগুলিতে একইভাবে তিনিও বিচারের আগেই হাইকোর্ট থেকে অব্যাহতি পান।

তবে বিগত সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার এবং বর্তমান সরকারের সময়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি, চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুর আইসিডিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা এবং ফেনী, ছাতক ও কামতা গ্যাস ফিল্ড এ গ্যাস উত্তোলনে নাইকো রিসোর্সকে কাজ দেয়ায় নাইকো দুর্নীতি, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের অর্থ আত্মসাতের দুর্নীতি এবং জিয়ার অরফানেক ট্রাস্ট্রের অর্থ আত্মসাতের দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। নাশকতার এবং বিভিন্ন সময় মানহানিকর বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মানহানির মামলা দায়ের করা।

মামলাগুলোর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত -৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান । একই আদালতে বিচারাধীন চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে।

২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে খালেদা জিয়াকে গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। ওই মামলায় তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তিনিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাটিতে তাকে ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই দুদকের আবেদনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে এই মামলাসহ সকল মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হন খালেদা জিয়া।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। মামলা বিচারিক আদালতে বদলি হয়ে যাওয়ার পর ওই বছর ১২ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ আসামিদের উপস্থিতির প্রথম দিন ধার্য হয়। সে হিসেবে বিচারিক আদালতে ৮ বছর ৫ মাস ২৬ দিনে ২৩৬টি ধার্য তারিখ পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়। যার মধ্যে ৫০টি ধার্য তারিখে প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২৩৬টি ধার্য তারিখের মধ্যে তিনবার তার জামিন বাতিল হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। মোট সাত জন বিচারক মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন। সপ্তম বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন।

যেভাবে রায়ের পর্যায়ে : মামলাটি তদন্তের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর ওই বছর ৭ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার সদরঘাটস্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতে খালেদা জিয়া প্রথম মামলাটিতে হাজিরা প্রদান করেন। ওইদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক (বর্তমানে বিচারপতি) এএনএম বশির উল্লাহ চার্জশিট আমলে গ্রহণ করে ওই বছর ২৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিনের প্রথম দিন ধার্য করেন।

মামলাটির চার্জশিট আমলে গ্রহণ করার আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে একটি রুল জারি করেন।

ওই অবস্থায় মামলাটি ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি বিচারের জন্য বদলি করা হয়। ওই বছর ২৭ জানুয়ারি ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ মো. মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে মামলাটির প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির ছিলেন না।

২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে নি¤œ আদালতে হাজিরা দেওয়ার ৩ বছর পর ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ বিচারক মো. মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে হাজিরা প্রদান করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান খালেদা জিয়া। কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি ওই বছর ১১ অক্টোবর একই আদালতে হাজিরা প্রদান করেন। ওইদিন আপিল বিভাগে ওই মামলা সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন থাকায় ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি চার্জশুনানির দিন ঠিক করা হয়।

পরবর্তীতে ওই বছর ২ এপ্রিল খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতেতে তার পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন দাখিল করা হয়। যার শুনানির জন্য ১৮ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ওই বছর ১২ এপ্রিল বিচারক মো. মোজাম্মেল হোসেন মারা যাওয়ায় শুনানি পেছানো হয়। পরবর্তীতে ওই আদালতে বিচারক মোতাহার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যিনি ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলে তারেক রহমানকে বিদেশে অর্থ পাচারের মামলায় খালাস প্রদান করেন। ওই রায় ঘোষণার পরদিন ওই বিচারক ওই আদালতে বসেননি। পরবর্তীতে তিনি বিদেশে চলে যান।

পরবর্তীতে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়কে নিয়োগ প্রদান করা হয়। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ রিট খারিজের পক্ষে রায় দেওয়ায় অবশেষে ৪১টি ধার্য তারিখ পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ওই আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে দুদক চার্জ গঠনের আবেদন করেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় আবেদন করা হলেও বিচারক বাসুদেব রায় খালেদা জিয়াসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে চাজর্ গঠন করে ওই বছর ২১ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।

ওই বছর ৫ মে মামলাটি পুরান ঢাকার সদরঘাটের আদালত থেকে বকশিবাজারস্থ আলিয়া মাদ্রাসার মাঠের অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ওই বছর ২১ মে ওই আদালতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিচারক বাসুদেব রায়কে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট আবেদন করায় ওইদিন সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানো হয়। পরবর্তীতে একই কারণে ৮টি ধার্য তারিখে সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানো হলেও ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে বাদীর আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক বাসুদেব রায়।

সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্য গ্রহণ করায় ওইদিন বিচারকের প্রতি অনাস্থা প্রদান করা হয়। যে কারণে পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে কোন আদেশ না আনতে পারায় ৪টি ধার্য তারিখ পরে একই বিচারক খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে ২০১৪ সালের ১, ৮, ১৭ ডিসেম্বর বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন।

হাইকোর্ট থেকে বিচারক পরিবর্তনের কোনো আদেশ না আসলেও বিচারক বাসুদের রায়কে বদলি করে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) আবু আহমেদ জমাদারকে ওই আদালতের বিচারক নিয়োগ করা হয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর নতুন বিচারকের প্রথম ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। ওইদিন বিচারক আবু আহমেদ জমাদার খালেদা জিয়াকে ন্যায় বিচারের বিষয়ে আশ^স্ত করে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।

এরপর ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারক বাদীর আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় ওই বছর ১৫ জানুয়ারি সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারক বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা প্রদান করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর ওই বছর ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হলে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার জামিন মঞ্জুর করে ওই বছর ৫ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।

একই বছরের ২৫ মে, ১৮ জুন ও ২৩ জুলাই আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। তবে তার অনুপস্থিতিতে বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ায় বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন বিচারাধীন থাকায় মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি রাখা হয়। এরপর ওই বছর ৩ আগস্ট খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হন। ওইদিনও একই কারণে ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি রাখা হয়। তবে চ্যারিটেবল মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বছর ১০ আগস্ট আদালত প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার চিকিৎসা গ্রহণের স্বার্থে ৬ সপ্তাহের জন্য বিদেশ যেতে অনুমতি প্রদান করেন। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। ওইদিন শুধু চ্যারিটেবল মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এরপর খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে এবং দেশে ফিরে অসুস্থ থাকায় ২৬টি ধার্য তারিখে অনুপস্থিত থাকেন খালেদা জিয়া। ওই সময় অরফানেজ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ মূলতবি থাকলেও চ্যারিটেবল মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়ে যায়।

এরপর ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়। ওইদিন অরফানেজ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানো হয়। এরপর ওই বছর ২১  ও ২৮ এপ্রিল, ১৯ ও ২৬ মে খালেদা জিয়া অনুপস্থিতিতেই অরফানেজ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এরপর ওই বছর ২  জুন ও ১০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কয়েকটি ধার্য তারিখ পর ১ ডিসেম্বর অরফানেজ মামলায় জেরা এবং চ্যারিটেল মামলায় আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন খালেদা জিয়া।

এরপর ওই বছর ৮ ও ২২ ডিসেম্বরও তিনি আদালতে হাজির হন। ২৯ ডিসেম্বর অরফানেজ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আত্মপক্ষ শুনানির দিন ঠিক করা হয়। এরপর ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ শুনানি পিছিয়ে মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেন। এরপর ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার নুর আহমদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় এবং ওইদিনই তা শেষ হয়। এর মাধ্যমে মামলাটিতে দুদক পক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

এরপর মামলাটিতে ওই বছর ৩০ জানুয়ারি, ২ ফেব্রুয়ারি, ৪ এপ্রিল, ৮ মে আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। বিচারক আবু আহমদ জমাদার তা নামঞ্জুর করায় তার প্রতি অনাস্থা প্রদান করে খালেদা জিয়া এবং বিচারক পরিবর্তনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।

২০১৭ সালের ৮ মার্চ হাইকোর্ট  খালেদা জিয়ার আবেদন মঞ্জুর করে মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লাকে বিচারের দায়িত্ব দেয়। এরপর ওই বছর ১৪ এপ্রিল ওই বিচারকের ওপরও অনাস্থ দেন খালেদা জিয়া। অনাস্থার কারণ বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা ওই মামলা তদন্তকালীন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। ওই বছর ১৪ মে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার ওই আবেদনও মঞ্জুর করে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ডা. মো. আখতারুজ্জামানকে বিচারের দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরপর গত বছর ৮, ১৫, ২২ ও ২৯ জুন, ১৯ ও ২৬ অক্টোবর, ২, ৯, ১৬, ২৩ নভেম্বর, ৫ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দেন। যার মধ্যে গত ১২ অক্টোবর এবং ৩০ নভেম্বর প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ১৯ অক্টোবর এবং ৩০ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ৫ ডিসেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

অন্যদিকে গত বছর ১৯ ও ২৬ অক্টোবর, ২, ৯, ১৬, ২৩ নভেম্বর ৫ ডিসেম্বর তারিখে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রায় ৯ ঘন্টা বক্তব্য প্রদান করেন। সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর তিনি নিজেকে নির্দোষ ও খালাস পাওয়ার যোগ্য বলে দাবী করেন।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর মামলাটিতে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ওইদিন দুদকের পক্ষে দুই ঘন্টা যুক্তিতর্ক শেষে খালেদা জিয়াসহ আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদ- দাবি করা হয়। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে গত ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর, ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১৬ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

এ বছরের ১৬ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্মানজনকভাবে খালাস পাবেন জানিয়ে আইনজীবী মওদুদ আহমেদ যুক্তিতর্ক সমাপ্ত ঘোষণা করেন। খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই ওই যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি অন্যান্য আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৫ জানুয়ারি বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/মামুন খান/এনএ

Walton
 
   
Marcel