ঢাকা, শুক্রবার, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

গণফোরাম নিয়ে বিএনপিতে সন্দেহ

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০২ ৮:৫৬:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-১২ ১:৫২:৪১ পিএম
গণফোরাম নিয়ে বিএনপিতে সন্দেহ
Voice Control HD Smart LED

এসকে রেজা পারভেজ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রথমে গণফোরামের সুলতান মুহাম্মদ মনসুর এরপর দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য ও সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দু’জনের ক্ষেত্রেই গণফোরাম থেকে বলা হয়েছে তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছেন। পরপর এমন দুটি ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছে না জোটের অন্যতম দল বিএনপি। দলের নীতি নির্ধারকরা এতে যেমন অস্বস্তিতে রয়েছেন তেমনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও গণফোরামকে দেখছেন সন্দেহের চোখে।

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল মেনে না নেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিলো জোট থেকে নির্বাচিত কেউই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। কিন্তু এরই মধ্যে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জনই শপথ নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চাপে পড়েছেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। বিশেষ করে বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন দলটির নীতি নির্ধারকরা। এরইমধ্যে গণফোরামের দু’জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় সেই চাপ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল নেতারা এরই মধ্যে প্রশ্নœ তুলছেন, তাহলে গণফোরামের সঙ্গে জোট করে লাভ কি হলো? 

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির তৃনমূল আগে থেকেই গণফোরামের সঙ্গে জোট বাধা নিয়ে নেতিবাচক অবস্থানে ছিলো। মোকাব্বির খান শপথ নেওয়ার পর বিএনপির ভেতরে জোট ভাঙার আওয়াজ উঠেছে। তারা এও বলছেন যে, গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জন যেভাবে শপথ নিয়েছেন এতে ষড়যন্ত্র আছে। গণফোরাম প্রকাশ্যে তাদের (শপথ নেওয়া দু’জন) বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ভেতরে ভেতরে এই শপথ নেওয়াকে সমর্থন করছেন কি না-সে বিষয় নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দু’জন নেতা নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা মনে করছেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার সঙ্গে গণফোরাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারাই দু’জনকে শপথ নিতে বলে এখন ‘বহিস্কারের নাটক’ করছেন। গণফোরাম বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করছে। বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন শপথ নিলো না অথচ তারা শপথ নিলো। দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে দলের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, সেই দলের সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কতটুকু পথ চলা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই দু’জন নেতা।

জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তিনি (মোকাব্বির খান) দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। এর সঙ্গে গণফোরামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি গণফোরামের যে দলীয় প্যাডে শপথ নেওয়ার কথা লিখেছের সেখানে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো স্বাক্ষর নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দলের ‘অনুমতি নিয়েই’ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন দাবি করে মোকাব্বির খান বলেছেন, সংসদে তিনি ‘শতভাগ বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করবেন। আর যারা তার বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে দলীয় প্যাড ব্যবহারের অভিযোগ করছেন, তারা হয়ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নয়ত অপরাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সম্পর্কে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধন্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। নিশ্চয়ই দল এবং জোটের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন, ‘তার এভাবে শপথ নেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ দুষ্টু লোকের চেয়ে শূন্য ঘরই ভালো।’

মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার বিষয়ে দলটির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে তিনি দল, জোট এবং জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। দল ও জোট তার বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোকাব্বির খান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য প্রতীক নির্বাচন করেন। সোমবার গণফোরামের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে তিনি দু’এক দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান। স্পিকার তাকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শপথগ্রহণের জন্য সময় দেন।

এবারের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আটটি আসনে জয়লাভ করে। তার মধ্যে বিএনপি ছয়টি ও গণফোরাম দুটি আসন পায়। গণফোরামের আরেক সদস্য সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে নির্বাচিত হন। গত ৭ মার্চ তিনি শপথ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় তাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৭ মার্চ মোকাব্বির খানেরও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগের দিন তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

অবশ্য বিএনপি শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে এখনও অনড়। সংবিধান অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ নিতে হবে।

এর আগে মোকাব্বির খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ এপ্রিল ২০১৯/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge