গাজীপুরে বিআরটি প্রকল্পের কাজে ধীরগতি, সড়কে জনদুর্ভোগ
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
করোনা প্রাদুর্ভাব রোধে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও গাজীপুরে মহাসড়কে দুর্ভোগের কমতি নেই সাধারণ মানুষের। জরুরি প্রয়োজনে যারা টঙ্গী বা ঢাকায় যাচ্ছেন, তারা প্রতিদিনই পড়ছেন যানজটের দুর্ভোগে।
টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যানবাহন চালাচলের জন্য এখনও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে টঙ্গী ব্রিজ থেকে এরশাদনগর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের বেহাল দশা। এ ছাড়া চেরাগআলী মার্কেট, চান্দনা চৌরাস্তা মোড়, তারগাছ, সাইনবোর্ড, ভোগড়া বাইপাস মোড়ে বেহালদশায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এ মহাসড়কে দুই পাশের মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সড়কের দুর্ভোগের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা এই দুর্ভোগের জন্য বিআরটি প্রকল্পের কাজের ধীর গতিকে দায়ী করেছেন।
গত ১৬ জুন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার এবং বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ সড়ক পরিদর্শনের সময় বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে দুই করে চার লেনের রাস্তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এক মাস হতে চললেও বাস্তবে এ কাজ আরও এক মাসে করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুরাতন বিটুমিন মিশ্রিত পাথর ফেলে রোলার মেশিন দিয়ে সমান করে দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টি হয়ে যানবাহনের চাকার আঘাতে ওই পাথরগুলো উঠে গিয়ে ফের গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, লকডাউনের মধ্যে যানবাহন কম চলাচল করছে, এর মধ্যেও রাস্তার যে বেহালদশা; সামনে ঈদের সময় লকডাউন খুলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল শুরু হলে সড়কের কী অবস্থা হবে তা সময় হলেই বুঝা যাবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, টঙ্গী বাজার, আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম সংলগ্ন, স্টেশন রোড, পিপলস সিরামিকের সামনে, চোরাগআলী, কলেজ গেইট, গাজীপুরা, তারাগাছ, বড়বাড়ী, বোর্ড বাজার, সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, বাসন সড়ক, ভোগড়া বাইপাস মোড় ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিদিন লকডাউনের মধ্যেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল না করলেও পণ্যবাহী গাড়ির কমতি নেই। বৃষ্টি হলে এই সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ বলেন, সড়ক সচলে পুরোদমে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৫৫ ভাগের বেশি কাজ শেষ হয়ে গেছে। যানবাহন ও মানুষের চলাচলে যেন দুর্ভোগ না হয়, সেই জন্য প্রকল্পের কর্মীরা সার্বক্ষণিক সড়ক মেরামতের কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রফিক/বকুল
হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর