ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩৩ || ২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জুলাই হামলার বিচার পেছানোয় জাবি উপাচার্যের দুঃখ প্রকাশ

জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ১৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৩, ১৯ মে ২০২৬
জুলাই হামলার বিচার পেছানোয় জাবি উপাচার্যের দুঃখ প্রকাশ

অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদন আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে না। ক্যাম্পাসের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কমিটির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

আরো পড়ুন:

উপাচার্য জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সভাগুলো শেষ করে আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ, বিশেষ করে ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাই উপাচার্যের বাসভবনে আন্দোলনকারীদের ওপর যে নারকীয় হামলা হয়েছিল, তার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক এ ঘটনায় অভিযুক্ত। স্ট্রাকচার্ড কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, মাত্র দুই-তিনটি সভা বাকি ছিল।”

উপাচার্য আরো বলেন, “চলমান আন্দোলনের কারণে আমরা রেজিস্ট্রার ভবনে প্রবেশ করতে পারিনি। এ জন্য আমরা দুঃখিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অঙ্গীকার করার পরও সময়মতো কাজ শেষ করতে পারিনি। বিশেষ পরিস্থিতিটি সবাই বিবেচনায় রাখবেন বলে আশা করি।”

আসন্ন সিন্ডিকেট সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেটসংক্রান্ত প্রয়োজনের কারণে সভা আয়োজন করতে হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় সেখানে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষার্থীরা সবাই এই অন্যায়ের বিচার চান। কিন্তু কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এই সিন্ডিকেট সভাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি।”

তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। উপাচার্যের ভাষ্য, “সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এবং ন্যায্য বিচারের লক্ষ্য ধরে রাখতে পারলে অচিরেই বাকি সভাগুলো শেষ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিচার চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর থেকেই বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে টানা বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি চলছে। ১৬ মে একদল আন্দোলনকারী প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন। পরদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবন (রেজিস্ট্রার ভবন) অবরোধ করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলম উপস্থিত হলে সেখানে থাকা কয়েকজন আন্দোলনকারী তাঁকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপাচার্যও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব তৈরির চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

ঢাকা/আহসান/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়