বছরের পর বছর একই কমিটি, নতুন নেতৃত্ব চায় কুবি ছাত্রদল
এমদাদুল হক, কুবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি পাঁচ বছর ধরে বহাল রয়েছে। ৩১ সদস্যের এ কমিটিতে আহ্বায়কসহ অন্তত ২৮ জনের বর্তমানে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই।
নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার আশায় কয়েকজন আবার সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে পদধারী অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। ফলে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন পার করছেন সংগঠনটির তৃণমূল কর্মীরা।
২০২১ সালের ১৬ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের (দ্বিতীয় ব্যাচ) শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের (তৃতীয় ব্যাচ) শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান শুভকে সদস্য সচিব করা হয়।
বর্তমান ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে এখন মাত্র দুজনের নিয়মিত ছাত্রত্ব রয়েছে। বাকিরা অনেকেই ছাত্রজীবন শেষ করে চাকরি বা পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কেউ কেউ আবার বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন।
যদিও কমিটি ঘোষণার সময় বিজ্ঞপ্তিতে মেয়াদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি, তবে একই সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরো নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঁচটি মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের যে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মেয়াদ ছিল তিন মাস।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের ১৪ অনুচ্ছেদের (খ) ও (গ) অনুযায়ী, আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন আয়োজন সম্ভব না হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকে কেন্দ্রীয় সংসদের।
তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্ষেত্রে কমিটি গঠনের চার বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও, ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘোষণা করা হয়নি নতুন কমিটি। একইসঙ্গে সংগঠনটির কোনো আবাসিক হল কিংবা ফ্যাকাল্টি কমিটিও গঠন করা হয়নি।
এদিকে, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ৪ নভেম্বর পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করলেও ছয় মাস পার হয়ে গেছে, এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলকর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় ছয় বছর ছুঁই ছুঁই। দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি বহাল থাকায় এবং অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ অনুপস্থিত থাকায় সাংগঠনিক গতিশীলতা অনেকটাই কমে গেছে।”
তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০তম ব্যাচ চলমান, অথচ বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২য় ও ৩য় ব্যাচের ভাইয়েরা। এই বিশাল প্রজন্মগত ব্যবধানের কারণে নবীন শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব এনে সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ছাত্রদলের আরেককর্মী ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসের মতো আমরাও নতুন কমিটির আশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অন্যান্য ইউনিটে নতুন কমিটি হলেও আমাদের এখানে এখনো কোনো কমিটি হয়নি। ত্যাগীদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে যারা দুঃসময়ে দলের রাজনীতি করেছি, তারা সবাই হতাশ।”
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কমিটি কতদিন থাকবে, সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সংসদ নেবে। তারা প্রয়োজন মনে করলে নতুন কমিটি দেবে।”
সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলেরও নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলমান। যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
নতুন নেতৃত্বে কেমন শিক্ষার্থীরা আসতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই কমিটি হবে। যথাসম্ভব রানিং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নেতৃত্বে আনা হবে।”
ঢাকা/জান্নাত