ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩০ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রঙিন স্কুলের উপজেলা

শাহীন রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৩১, ২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
রঙিন স্কুলের উপজেলা

পাবনা প্রতিনিধি: চাটমোহর এখন রঙিন স্কুলের উপজেলা। রঙের ছোঁয়ায় এখানের সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে জেগেছে নতুন প্রাণ।

স্কুল ভবনের ভেতরে-বাইরে, প্রবেশ মুখ, দেয়াল সবখানে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রঙে। রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে জাতীয় ফলমূল, পশুপাখি, দেশ-প্রকৃতি, বাংলা-ইংরেজি বর্ণ, মিনা কার্টুন ও মনীষীদের ছবি।

শিক্ষার্থীদের শিল্পমনা করে গড়ে তুলতে, দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে জানাতে এবং স্কুলগামী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন।

এতে করে দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি আর জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে স্কুলগুলোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমবে বলে আশা শিক্ষকদের।

উপজেলার বোঁথড়, দোলং, আফ্রাতপাড়াসহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, রঙের ছোঁয়ায় স্কুলগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শিক্ষার্থীরাও খুব উৎফুল্ল।

চারুশিল্পী মানিক কুমার দাস স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে আঁকছেন ফুল-ফল, পশু-পাখি ও ছোটদের মিনা কার্টুনের ছবি। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের ম্যাপ, গুণীজনের প্রতিকৃতি ও নানা ধরণের নীতিবাক্য। এখন পর্যন্ত উপজেলার ২০টি স্কুলে এমন আঁকাআঁকির কাজ করা হয়েছে।

বোঁথড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপি খাতুন জানান, একজন শিশুকে ভাল শিক্ষা দিতে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ ও সুন্দর মন। স্কুলের পরিবেশ যদি সুন্দর হয় তাহলে শিশুদের পড়াশোনায় মনযোগী করে তোলা যায়। বিদ্যালয় রঙিন করে তোলায় লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল হবে বলে জানালেন তিনি।

দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিকা সুলতানা বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই ভাল কাজ। শিশুরা আনন্দের সাথে পড়াশোনা করবে। শিশুরা স্কুলমুখী হবে, ঝরে পড়ার হার কমবে। আবার যেভাবে ছবি দিয়ে আঁকানো হচ্ছে, সেসব দেখেও অনেক কিছু শিখতে পারবে শিশুরা।’

চাটমোহর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং স্কুলমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলে এমন পরিবেশ পেলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে আনন্দ পাবে। পড়াশোনায় মনযোগী হবে এবং ঝড়ে পড়া রোধ হবে। মূলত এসব উদ্দেশেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সরকারি স্লিপফান্ডের টাকা ব্যয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১৫৩টি স্কুলকে এমনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

রাইজিংবিডি/পাবনা/২ জুলাই ২০১৯/শাহীন রহমান/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়