Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৪ ১৪২৮ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২৩ বছরের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম

এ.কে. সাজু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২০, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
২৩ বছরের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম

নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভা

দীর্ঘ ২৩ বছরের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়েই চলছে এই পৌরসভার কার্যক্রম। অন্যদিকে, পৌরসভার পুরো কার্যক্রম চলার জন‌্য ইউনিয়ন পরিষদের ভবন দখল করায় পরিষদের কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটছে।

জানা যায়, নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার এই ভবনটি ৮০’র দশকের। ইউনিয়ন পরিষদের ভবন হিসেবে ব্যবহারের সময়ে ১৯৯৮ সালে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে নওগাঁ জেলা প্রশাসন। ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ হলে সেখানে স্থানান্তর হয় ইউনিয়ন পরিষদ। এরপর ২০০৪ সালে গঠিত হয় ধামইরহাট পৌরসভা। পৌরসভার নিজস্ব ভবন না থাকায় সে সময় থেকে পরিত্যাক্ত ওই ভবনে তার দাপ্তরিক কাজ চলতে থাকে। এরপর কেটে গেছে সুদীর্ঘ ১৭ বছর। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পৌর মেয়র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দখল করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একাংশ। এতে পরিষদের ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ধামইরহাট পৌরসভার ভবনটির দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিভিন্ন জায়গাতে ভেঙে পড়েছে ছাদের পলেস্তারা। ঝুঁকি নিয়ে পৌরসভার কর্মচারী ও কর্মকর্তারা সেবা দান করে আসছেন। 

ধামইরহাট উমার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ‌্যাডভোকেট আইউব হোসেন বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ১৯৯৮ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসন। ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ হলে সেখানে স্থানান্তরিত হয় ইউনিয়ন পরিষদ। আর এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে সেই সময় আমি হরিণ রাখতাম। যেহেতু আমার নির্বাচনি মার্কা ছিলো হরিণ। ২০০৪ সালে ধামইরহাট পৌরসভা গঠিত হলে এই পরিত্যক্ত ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সেখানেই রয়েছে। এর কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

ধামইরহাট উমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেশির ভাগ কক্ষ দখল করেছে পৌরসভা। এতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কাজী অফিসের রুম, ডিজিটাল তথ্য সেবার জন্য রুম, এমনকি নেই ইউপি সদস্যরা আলাদা বসার কোনো রুম। আর এতে করে পরিষদে ডিজিটাল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।

ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র (২) মেহেদী হাসান জানান, ভবনটির অবস্থা একেবারেই নাজুক। দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে পড়ছে কনক্রিট। জোড়া তালি দিয়ে কনো রকম দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে ভবনটিকে। এ অবস্থায় চরম আতঙ্কে আছেন পুরো পৌরসভার কর্মচারীরা।

ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র (১) মুক্তাদিরুল হক মুক্তা জানান, পৌরসভার নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় পরিত্যাক্ত ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকার পৌর ভবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু জমি না দিতে পারায় সে ভবন আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ধামইরহাট পৌরসভা মেয়র আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি সমাধানে উপর মহলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও পৌরসভার নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের জমি থেকে কিছু অংশ পৌরসভায় দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ জটিলতা সমাধান হলে দ্রুত নতুন ভবন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নওগাঁ/সারা/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ