ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩২ || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিঙ্গারা বেঁচে মাসে লাখ টাকা আয় হেলাল-মিজানের

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ৩০ জুলাই ২০২৩  
সিঙ্গারা বেঁচে মাসে লাখ টাকা আয় হেলাল-মিজানের

দুই বন্ধু হেলাল হাওলাদার ও মিজান হাওলাদার। ৫ বছর আগে তারা খাবার হোটেলে কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের কর্ম জীবনের শুরু করেন। হোটেল ছেড়ে দুই বছর হলো দুই বন্ধু বোম্বাই মরিচ দিয়ে বেবি সিঙ্গারা বানিয়ে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। মাত্র ৩ টাকা দামের এই সিঙ্গারা কে কয়টা খেতে পারেন তা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। তাই সবার কাছেই প্রিয় হয়ে উঠেছে হেলাল-মিজানের বেবি বোম্বাই সিঙ্গারা।

ঝালকাঠি শহরের কলেজ খেয়াঘাট এলাকায় ছোট টং দোকানে হেলাল-মিজান বেবি বোম্বাই সিঙ্গারা বিক্রি করেন। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই সিঙ্গারার দোকান। 

আরো পড়ুন:

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেলাল-মিজানের দোকানে প্রতিদিন ৫০০০-৫৫০০ পিসের মতো সিঙ্গারা বিক্রি হয়। সিঙ্গারা তৈরিতে আরও ছয়জন সহযোগী রয়েছেন তাদের। প্রতিদিন সিঙ্গারা বিক্রি করে আয় হয় ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। সব কিছুর খরচ বাদ দিয়ে মাস শেষে এই দোকান থেকে হেলাল-মিজানের লাভ থাকে লাখ টাকার বেশি।

হেলাল-মিজানের দোকানে সিঙ্গারা কিনতে আসা সোহেল রানা নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা প্রায়ই হেলাল ও মিজান ভাইর কাছে সিঙ্গারা খেতে আসি। তাদের বানানো সিঙ্গারা স্বাদে অতুলনীয়। বিশেষ করে বোম্বাই মরিচ দিয়ে সিঙ্গারা তৈরি করায় এটার স্বাদ আলাদা হয়। তাদের আরেকটা গুণ আমার কাছে ভালো লেগেছে। সেটি হলো আজান হলেই সবকিছু গুছিয়ে নামাজে চলে যান তারা। সেসময় সিঙ্গারা বিক্রি বন্ধ থাকে। আমরা সবাই এখানে আসি সিঙ্গারা খেতে। ভালোই লাগে।’ 

আফছানা আক্তার নামে ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, ‘সময় পেলে আমরা বান্ধবীরা মিলে এখান থেকে সিঙ্গারা কিনে নিয়ে যায়। এখানকার সিঙ্গারাগুলো বোম্বাই মরিচ দিয়ে তৈরি হয়। ফলে সিঙ্গারাগুলোর স্বাদ হয় অন্যরকম।’ 

হেলাল-মিজানের সহযোগী মিরাজ হাওলাদার নামে একজন বলেন, ‘হেলাল ও মিজান আমার বন্ধু। কাজে সহযোগিতা করতে আমিও ওদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি।আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখানে ভালোই ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছি। একসঙ্গে অনেক ক্রেতা আসলে আমরা সিঙ্গারা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারি না। অনেকেই অপেক্ষা করে সিঙ্গারা খেয়ে যান। কেউ কেউ পার্সেল করে নিয়ে যান সিঙ্গারা তাদের পরিবারের জন্য।’

কথা হলে হেলাল হাওলাদার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ চেয়েছেন এরজন্য আমাদের বানানো সিঙ্গারার এতো চাহিদা রয়েছে। আমাদের সবকিছুর খরচ ও সহকারীদের বেতন দিয়ে মোটামুটি ভালোই লাভ থাকে। আমার এখানে অপরিষ্কারে কিছুই পাওয়া যাবে না। আমরা আজকের তেল আগামীকালকে ব্যবহার করি না। আমরা শুক্রবার ও নামাজের সময় বেচাকেনা বন্ধ রাখি।বাকি সময় দম ফেলার সুযোগ পাই না।’

অলোক/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়