ঢাকা     সোমবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

রাজশাহীতে নৌকার বিপক্ষে লড়তে চান আ. লীগের ৩ এমপি

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ১ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৮:৩২, ১ ডিসেম্বর ২০২৩
রাজশাহীতে নৌকার বিপক্ষে লড়তে চান আ. লীগের ৩ এমপি

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন দলের ১৫ জন নেতা। তাদের মধ্যে তিন জন বর্তমান এমপিও রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। রাজশাহীর ছয়টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৬০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। রাজশাহী-১ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. আখতারুজ্জামান, গোলাম রাব্বানী, শাহনেওয়াজ আয়েশা আখতার জাহান ও শারমিন আক্তার মাহিয়া নিপা। নিপা হলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। আর আয়েশা আখতার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের স্ত্রী।

রাজশাহী-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাদশা, দলের কর্মী আবু রায়হান মাসুদ ও রেজাউন নবী আল মামুন। 

রাজশাহী-৩ আসনে নৌকা পেয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিন। রাজশাহী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি এনামুল হক। এ ছাড়া বাবুল হোসেন নামের আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রাজশাহী-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিপক্ষে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি ডা. মনসুর রহমান। এ ছাড়া দলের নেতা আহসানুল হক মাসুদ ও যুবলীগ নেতা ওবাইদুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রাজশাহী-৬ আসনে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তাঁর বিপক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা রাহেনুল হক ও দলের কর্মী ইস্রাফিল বিশ্বাস। এই আসনে চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলামও প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। আবু সাঈদ চাঁদের বাড়িও শলুয়া ইউনিয়নে।

নতুন নিবন্ধন পাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) হয়ে রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু। বিএনএমে যোগ দেওয়ার পর মন্টুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজশাহী-২ ও রাজশাহী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা মো. শাহাবুদ্দীন।

রাজশাহীর আসনগুলোতে বিভিন্ন দলের আরও যারা প্রার্থী হতে চান তারা হলেন- রাজশাহী-১ আসনে মো. শামসুজ্জোহা (বিএনএম), মো. আল-সাআদ (বিএনএফ), জামাল খান দুদু (তৃণমূল বিএনপি), নুরুন্নেসা (এনপিপি) ও বশির আহমেদ (মুক্তিজোট), মো. শামসুদ্দীন (জাতীয় পার্টি)।

রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা (বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি), আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী (জাসদ), সাইফুল ইসলাম স্বপন (জাতীয় পার্টি), কামরুল হাসান (বিএনএম), মো. শামীম (তৃণমূল বিএনপি), ইয়াসির আলিফ বিন হাবিব (মুক্তিজোট), মো. মনিরুজ্জামান (গণফ্রন্ট), মারুফ শাহরিয়ার (বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টি)।

রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সইবুর রহমান (এনপিপি), সোলাইমান হোসেন (জাতীয় পার্টি), বজলুর রহমান (বিএনএফ), আবদুস সালাম খান (জাতীয় পার্টি), এনামুল হক (মুক্তিজোট), মো. মনিরুজ্জামান (গণফ্রন্ট) ও নিপু হোসেন (স্বতন্ত্র)। রাজশাহী-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম রায়হান (বিএনএম), জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না (এনপিপি), মতিউর রহমান (বিএনএফ) ও আবু তালেব প্রামানিক (জাতীয় পার্টি)।

রাজশাহী-৫ আসনে প্রার্থী হতে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মখলেসুর রহমান (গণফ্রন্ট), আলতাফ হোসেন মোল্লা (বিএসপি), শফিকুল ইসলাম (জাকের পার্টি), শরিফুল ইসলাম (বিএনএম) ও আবুল হোসেন (জাতীয় পার্টি)। রাজশাহী-৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জুলফিকার মান্নান জামী (জাসদ), মহসিন আলী (এনপিপি), রিপন আলী (জাকের পার্টি), শামসুদ্দিন রিন্টু (জাতীয় পার্টি) ও আবদুস সামাদ (বিএনএম)।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে দলীয় এবং স্বতন্ত্র মিলে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি হবে ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বৈধ প্রার্থীরা আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর।
 

কেয়া/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়