ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাবান্ধা দিয়ে ৪০ বছর পর দেশে ফিরলেন নেপালের নাগরিক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ২৩ মে ২০২৪  
বাংলাবান্ধা দিয়ে ৪০ বছর পর দেশে ফিরলেন নেপালের নাগরিক

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশে ছিলেন নেপালি নাগরিক বীর বাহাদুর রায়। অবশেষে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেলের দিকে বীর বাহাদুরকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে তেঁতুলিয়া প্রশাসন। তিনি নেপালের গোরখে বাঙ্গিনা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত অধীর চন্দ্র।

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন- তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বি, নেপালের দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত মিস ললিতা সিলওয়াল, দ্বিতীয় সচিব মিস ইয়োজানা বামজান ও সেক্রেটারি অব অ্যাম্বাসেডর রিয়া ছেত্রী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল হাসান, বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই ও ইনচার্জ অমৃত অধিকারী প্রমুখ। বীর বাহাদুর রায়কে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা হয়। স্বজনদের ফিরে পাওয়ায় আনন্দে চোখের পানি ফেলেন বীর বাহাদুর। স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর পূর্বে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বীর বাহাদুর রায়। দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। প্রায় ৩০ বছর যাবৎ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকার অলোক বসাকের চাতালে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে বীর বাহাদুর রায়ের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা বিরূপ কোন তথ্য না পাওয়ায় গত ১৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে নেপালি নাগরিক বীর বাহাদুর রায়কে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী আইনি জটিলতা নিরসন শেষে আজ বিকেলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বীর বাহাদুরের ভাতিজা রাজন রায় বলেন, আমরা খুব কৃতজ্ঞ বাংলাদেশের মানুষ ও প্রশাসনের প্রতি। তারা আমার চাচাকে পরম যত্নে রেখেছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, বীর বাহাদুর রায় একজন নেপালী নাগরিক। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাসহ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার একজনের আশ্রয়ে ছিলেন। তার এ অবস্থানকালে কোনো প্রকার মামলা কিংবা বিরূপ কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দিলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাঈম/ফয়সাল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়