ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২ || ২৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জামায়াত নেতা কাউছার হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক নয়: রেজাউল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০৩, ১০ জুন ২০২৫   আপডেট: ১৫:১১, ১০ জুন ২০২৫
জামায়াত নেতা কাউছার হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক নয়: রেজাউল

লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “জামায়াত নেতা কাউছার আহম্মদ মিলন হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক নয়। সামাজিক একটি ঘটনায় জামায়াত নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের উভয়ের (বিএনপি-জামায়াত) কথা হয়েছিল, হত্যাকারী যেই হোক তাকে বহিষ্কার করা হবে। বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি।” 

তিনি বলেন, “জঘন্যতম কথা বলা হচ্ছে যে, জামায়াত একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে। কাউছার আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তার ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত ছিল। সেটি কিভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়?”

আরো পড়ুন:

আরো পড়ুন: স্বাভাবিক মৃত্যুকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করবেন না

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে জেলা জামায়াতের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

গতকাল সোমবার (৯ জুন) লক্ষ্মীপুর শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হলরুমে বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসিচব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “হামলায় নয়, জামায়াত নেতা কাউছার আহমদের মৃত্যু হয়েছে স্বাভাবিকভাবে। তবে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে রূপ দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।” 

জামায়াত নেতা রেজাউল করিম বলেন, “বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, কাউছার আগে স্ট্রোক করেছেন, অতএব এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। এসব কথায় জাতি বিভ্রান্ত। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এখন তার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।”

আরো পড়ুন: বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর নামে মামলা, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

হত্যা নিয়ে রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “রাজনৈতিককরণ কারা শুরু করেছে- সন্ত্রাসীরা তাকে আহত করেছে এবং তিনি মারা গেছেন। কিন্তু মামলার আসামিরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। হামলার ঘটনার পর তারা বিরাট একটি মিছিল করেছে, স্যোসাল মিডিয়ায় তা আসছে। তাহলে রাজনীতিকরণের সূচনাটি কারা করলো?”

জামায়াতের এই নেতা বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত হয়, রিপোর্ট আসবে। রিপোর্ট আসার আগেই কেউ কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এজন্য আমরা শঙ্কিত কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার নিয়ে। প্রকৃত হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট আসবে বলে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করি।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ আর হাফিজ উল্যাহ, সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহ-সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান ও চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম সুমন খান।

কাউছার আহমেদ রাজিবপুর এলাকার মৃত মমিন উল্যার ছেলে। তিনি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন জামায়াতের ওলামা বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন।

জামায়াত জানায়, কাউছারের মৃত্যুর ঘটনায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের  স্ত্রী শিল্পি আক্তার রবিবার (৮ জুন) মামলাটি করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্তরা বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কাউছার বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে হামলার শিকার হয়ে সন্ধ্যায় মারা যান। 

ঢাকা/জাহাঙ্গীর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়