দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ কাটিয়ে মনোনয়নের বৈধতা পেলেন মিন্টু
ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। রবিবারের ছবি।
ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণের যে অভিযোগ এনেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, যাচাই-বাছাইয়ে তা কাটিয়ে উঠে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার হাসি হেসেছেন তিনিই।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
এদিন মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি জানান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম।
আপত্তির জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। তবে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি তা পরিত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় লিখেছেন। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন দূতাবাসে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার তথ্য দাখিল করেছেন তিনি। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা আছে, বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে সেটি আর গণ্য হবে না। সে অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের কাছে যে লিগ্যাল ওপিনিয়ন ছিল, তার পাশাপাশি তিনি হলফনামায় লিখেছেন, তিনি বাংলাদেশের ইউএস এম্বাসিতে আবেদন করেছেন। তিনি তার পক্ষে দুটি লিগ্যাল ফরম্যাট ওপিনিয়ন দিয়েছেন। সেখানে ফেনী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরেরও একটি ওপিনিয়ন ছিল। এগুলোর ভিত্তিতে আমাদের যা মনে হয়েছে, আমরা সেটাই করেছি।”
“এরপরও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের ওপরেও অথরিটি আছে। আমি নির্বাচন কমিশন ও পিপির মতামত লিখিতভাবে যাচাই করেছি। পিপির মতামত পেয়েছি, তবে নির্বাচন কমিশনের মতামত পাইনি। আমরা সব কর্মকর্তা বসে আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, সে অনুযায়ী কাজ করেছি। এরপরও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অথরিটি আছে,” যোগ করেন মনিরা হক।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, “যারা আমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ ও নানা সম্পদ রয়েছে; এসব তারা কষ্ট করে যাচাই করেছেন।”
নির্বাচনে কেন এসেছেন, সেই ব্যাখ্যায় মিন্টু বলেন, “ফেনীর মানুষের কল্যাণে কী করা দরকার, আমি জানি। সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শেষ বয়সে নির্বাচনে এসেছি।”
হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা। গত অর্থবছরে দেশের ভেতরে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা দেখানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে সাতজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও চারজনের বাতিল হয়েছে। মিন্টুসহ অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন: জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাসদের আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।
বিভিন্ন কারণে ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. হাসান আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদ ও মাহবুবুল হক রিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক।
ঢাকা/সাহাব/রাসেল