জকসু নির্বাচন: গভীর রাতে হাতে ভোট গোনা শুরু, এরপর হবে মেশিনে
জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পদ্ধতিতে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা কক্ষে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। ছবি: রাইজিংবিডি। রাত ১টার দিকের অবস্থা। ছবি: রাইজিংবিডি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বৈঠকের মাধ্যমে নিরসনের পর গভীর রাতে নতুন পদ্ধতিতে আবার গণনা শুরু হয়েছে।
এখন হাতে ভোট গণনা চলছে। এরপর একই ভোট আবার পৃথক মেশিনে গোনা হবে। যদি হাতে গোনার সঙ্গে মেশিনে গণনার মিল হয়, তাহলে বাকি ভোট মেশিনে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
হাতে গোনার গতিপ্রকৃতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পুরো ভোট গণনা কার্যক্রম শেষ হতে সকাল হয়ে যাবে।
জকসু নির্বাচন কমিশন ও প্রতিদ্বন্দ্বী ভিপি-জিএস প্রার্থীদের মধ্যে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে একটি বিভাগে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা শুরুর কথা থাকলেও তা আরম্ভ করতে রাত প্রায় ২টা বেজে যায়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে জকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কাকলি ভোট গণনার সর্বশেষ তথ্য দেন।
রাত পৌনে ১টার দিকে অধ্যাপক কাকলির সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি বলেন, মেশিনে গণনা নির্ভুল দেয় কি না, সেটি পরীক্ষার জন্য প্রথমে হাতে গণনা করা হবে। এই ব্যালটই আবার পৃথক কোম্পানি থেকে আনা দুটি মেশিনেই গোনা হবে। যেটি সঠিক ফল দেবে, সেটিতেই সব গণনা কার্যক্রম শুরু চলবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম জকসু নির্বাচনের আয়োজন হলেও ভোট গণনা নিয়ে জটিলতায় ফলাফল হতে বিলম্ব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক কাকলি দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও ভিপি-জিএস প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেখানে পুরনায় ভোট গণনার পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে থাকা ভোটারদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ।
ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের নিয়ন্ত্রণকক্ষে আনা হয়। সন্ধ্যার পর ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু হলেও ফলাফলে গড়মিল ধরা পড়ায় গণনা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন নতুন করে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জুলফিকার মাহমুদ বলেন, “প্রথমে আমরা একটি বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করে মেশিনে ফলাফল চেক করব। তারপর মেশিনের মাধ্যমেই ফল গণনা সম্পন্ন করা হবে।”
কোন বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করা হলে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “৩০০ এর আশপাশে ভোট কাস্ট হয়েছে এমন কোনো বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করা হবে, তারপর মেশিনে।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং একমাত্র ছাত্রী হল সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।
ঢাকা/লিমন/রাসেল