ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২ || ৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ধ্বংসস্তূপে জয়ের ফুল ফুটিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করল নিউ জিল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০০:৩৬, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ধ্বংসস্তূপে জয়ের ফুল ফুটিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করল নিউ জিল্যান্ড

ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে নিউ জিল‌্যান্ড। নাটকীয় লড়াইয়ে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। 

ম্যাচের এক পর্যায়ে প্রবল চাপে ছিল কিউইরা। কিন্তু দৃঢ়চেতা মনোভাব ও ঠাণ্ডা মাথার ব‌্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের পুঁজি পেয়ে যায় তারা। পরে অবিশ্বাস‌্য বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে অতি সহজে ম‌্যাচ জিতে নেয় নিউ জিল‌্যান্ড। এই পরাজয়ে শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিতের সঙ্গে শেষ চারের পথে এগিয়ে গেল কিউইরা।  

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগে ব‌্যাটিং করতে নেমে নিউ জিল‌্যান্ড ৭ উইকেটে ১৬৮ রান করে। জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ১০৭ রানের বেশি করতে পারেনি। ৬১ রানের বিশাল ব‌্যবধানে জয় পাওয়ায় রান রেটেও এগিয়ে থাকল নিউ জিল‌্যান্ড। 

অথচ ম‌্যাচের প্রথম ঘণ্টার পর মনে হচ্ছিল দিনটা হবে শুধুই শ্রীলঙ্কার। কিন্তু ২২ গজে কিউইদের দারুণ প্রত‌্যাবর্তনে সব ওলটপালট। নিউ জিল্যান্ডের শুরু ব্যাটিংয়েও ছিল না প্রাণ। পাওয়ার প্লে’তে ২ উইকেটে রান ৪৪। ৮৪ রান তুলতে তারা হারায় ৬ উইকেট। ফিন অ্যালেন ১৩ বলে ২৩ রান করে থেমে যান। টিম সেইফার্ট ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। আশা দেখাতে পারেননি গ্লেন ফিলিপস। ১৮ রান করেন সময়ের অন্যতম সেরা তারকা। 

এরপর তাদের ইনিংসে নাটকীয় ধস। রাচীন রাভিন্দ্র (২২ বলে ৩২), মার্ক চাম্পম্যান (০) ও ডার্ল মিচেল (৩) আউট হন ৫ বলের ব্যবধানে। এ সময়ে স্কোরবোর্ডে কোনো রানই যোগ হয়নি কিউইদের। 

সেখান থেকে লেজের ব্যাটসম্যানরা কত-ই বা রান যোগ করবেন? আশা করার খুব একটা সমর্থক থাকার কথা না। কিন্তু মিচেল স্যান্টনার এবং ম্যাককনচির অনবদ্য জুটিতে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। 

সপ্তম উইকেটে ৮৪ রান যোগ করেন তারা। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ রান। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে স্টিভেন স্মিথ ও মাইক হাসি ৭৪ রান করেছিলেন। ষোলো বছর পর তাদের রেকর্ড ভাঙলেন স্যান্টনার এবং ম্যাককনচি।

এছাড়া বিশ্বকাপে একশর নিচে ৬ উইকেট হারিয়ে সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহের রেকর্ডও এটি। ২০২২ সালে নামিবিয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত তারা তুলতে পারে ১৬৩ রান।  

স্যান্টনার এবং ম্যাককনচির শেষের ঝড়ে স্কোরবোর্ডের চিত্র পাল্টে দেয়। শেষ ৪ ওভারে ৭০ রান করেন তারা। দুজনের ব্যাটেই ছিল চার-ছক্কার জোয়ার। অধিনায়ক স্যান্টনার ২৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৭ রান করেন। ম্যাককনচি ২৩ বলে ৩১ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়। দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় নিউ জিল্যান্ড শিবির হয়ে উঠে আত্মবিশ্বাসী। 

শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে স্পিনার মাহেশ থিকসানা ও পেসার দুশমন্ত চামিরা ৩টি করে উইকেট নেন। 

বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে প্রথম বলেই জয়ের সুর বেঁধে দেন পেসার ম্যাট হেনরি। ডানহাতি পেসারের ভেতরে ঢোকানো বলের কোনো উত্তর জানা ছিল না পাথুম নিশাঙ্কার। তিনে নামা চারিথ আসালাঙ্কা হেনরির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন দ্বিতীয় ওভারে। এরপর কেবল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো। ৪৬ রান তুলতেই তাদের ৫ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। 

সময় যত গড়ায় উইকেটের সংখ্যা তত বাড়তে থাকে। কমতে থাকে রানের গতি। মিডল অর্ডারে তাদের পথ আটকে দেন স্পিনার রাভিন্দ্র। বাঁহাতি স্পিনার ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ধস নামা লঙ্কান ব্যাটিংয়ে। তাতে ম্যাচে এপিটাফ লিখা হয়ে যায় অতি সহজে। শুরুতে হেনরির আক্রমণ ও মাঝে রাভিন্দ্রর ঘূর্ণিতে নিজেদের মাটিতেই করুণ পরিণতি শ্রীলঙ্কার। দলের হয়ে কামিন্দু মেন্ডিস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। ২৯ রান আসে দুনিথ ওয়েলেগার ব্যাট থেকে।   

শুরুতে ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও বোলিংয়ে ৪ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের জয়ের নায়ক রাভিন্দ্র। 

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়