কলাপাড়ার তাপমাত্রা কমেছে ৪.২ ডিগ্রি
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শীত উপক্ষা করে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিতে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন এক ব্যক্তি
পটুয়াখালীতে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ কমেছে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে প্রচণ্ড শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলাচল করেছে দূরপাল্লার যানবাহন।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার কলাপাড়ায় সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস। এসময় জেলার অনেক স্থানের কুয়াশার দৃশ্যমানতা ছিলো ৫০ মিটারের নিচে। মঙ্গলবার জেলার সর্বনিম্ন ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কাঠে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছেন কয়েকজন
ঘন কুয়াশার কারণে বেলা বাড়লেও দেখা মিলছে না সূর্যের। ব্যাহত হচ্ছে সড়ক ও নৌ-পথের স্বাভাবিক কার্যক্রম। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। অতিরিক্ত ঠান্ডায় বিপাকে পড়ছেন শ্রমজীবী মানুষ। চরম বেকায়দায় পড়েছেন গভীর সাগরের মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা। অনেক স্থানে কাঠে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাতে দেখা গেছে শ্রমজীবীদের।
কলাপাড়া উপজেলা টিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক হাদিয়াস ঘরামী বলেন, “আজ ব্যাপক কুয়াশা। প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। দুই এক বছরের মধ্যে এতো শীত অনভূত হয়নি। আমরা শীতকালীন লাউ, কুমড়া, সিম ও বেগুন চাষ করেছি। বর্তমানে যে পরিমাণ কুয়াশা পড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে গাছের গোড়া পঁচে যাবে এবং আমরা লোকসানের মুখে পরব।”
কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা এলাকার রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, “দুই চার বছরের মধ্যে এতো কুয়াশা ও শীত অনুভূত হয়নি। সকাল রিকেশা নিয়ে বের হয়ে মাত্র একটা ক্ষ্যাপ (যাত্রী টানা) মেরেছি। শীতে মনে হয়েছে, সবকিছু অবস হয়ে যাচ্ছে। রোদ উঠলে আবারো রিকশা চালানো শুরু করব।”
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “শীত এবং ঘন কুয়াশার তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। বৃষ্টি হবে কিনা সে বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না।”
ঢাকা/ইমরান/মাসুদ