ঢাকা     রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১ ১৪৩২ || ২৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে জাবি শিক্ষিকার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক; ছাত্রশক্তি ও শিবিরের প্রতিবাদ

জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫০, ১৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:৫০, ১৫ মার্চ ২০২৬
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে জাবি শিক্ষিকার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক; ছাত্রশক্তি ও শিবিরের প্রতিবাদ

অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার পক্ষে তার মন্তব্যের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। সংগঠন দুটি শিক্ষিকার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

গত ১১ মার্চ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম বলেন, “দেশের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগকে ফিরতেই হবে।” তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) পৃথক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায় জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখা।

আরো পড়ুন:

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখা জানায়, দেশের ইতিহাসে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া ভুক্তভোগীদের প্রতি অবমাননাকর। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থিG

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি অপরাধের জবাবদিহিতার দাবিকে দুর্বল করতে পারে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উসকে দিতে পারে। সংগঠনটি অধ্যাপক রেজওয়ানা করিমকে তার বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯–এর আওতায় নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে বক্তব্য দেওয়া উস্কানিমূলক। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত শক্তিকে পুনর্বাসনের আহ্বান নতুন বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থি বলেও দাবি করা হয়।

শাখা সভাপতি ও সেক্রেটারির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত একটি শক্তির পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া দেশের ভেতরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অধ্যাপক রেজওয়ানা করিমের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দাবি বাস্তবায়িত না হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা/আহসান/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়