ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,  চট্টগ্রাম  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪০, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:৫৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সম্মিলিত যৌথবাহিনী।

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহতের পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সম্মিলিত যৌথবাহিনী। 

রাব জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের সঙ্ঘবদ্ধ ভূমিদস্যুচক্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব হামলার শিকার হয়। 

আরো পড়ুন:

র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী অধ্যুষিত জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গেলে র‍্যাবের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় র‍্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। তাদের ওপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে র‍্যাব-৭ উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল মোতালেব নিহত এবং র‌্যাবের তিন সদস্য আহত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‍্যাব-৭ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‌্যাবের অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। তখন র‍্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনজন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বর্তমানে সেনাবাহিনী, র‍্যাব এবং পুলিশের যৌথবাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বছরের পর বছর ধরে দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য চলে আসছে। দখল বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এ এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার শিকার হয়েছে।

অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী পক্ষ। ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। বর্তমানে এই দুই সমিতিতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

এখানে প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের ওপর নারকীয় হামলা চালানো হয়। এতে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং সীতাকুণ্ড থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। সন্ত্রাসীরা ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও গুলি চালাতে হয়।

২০২২ সালেও একাধিকবার র‍্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও তাদের প্রস্থানের পরপরই পুনরায় শুরু হয় প্রকৃতির বুক চিরে মাটি কাটার উৎসব। মূলত প্রবেশমুখে থাকা অতন্দ্র পাহারাদারদের মাধ্যমে সংকেত পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আগেভাগে পাহাড়ের ওপর অবস্থান নেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়, যা উচ্ছেদ অভিযানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

ঢাকা/রেজাউল/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়