৭ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মসূচি
বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ৬ দফা দাবি ইসলামী ফ্রন্টের
বন্দর চুক্তি ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, পাঠ্য পুস্তকে আহলে সুন্নাতের আক্বিদা পুনঃসংযোজন, মব সন্ত্রাসে নিহত মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ইমাম-খতিব ও ব্যাংকারদের পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে ধরেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম আবদুস সামাদ।
এসব দাবি বাস্তবায়নে সাত এপ্রিল পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
কর্মসূচি হলো: জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। ১ এপ্রিল এসব দাবির সমর্থনে জনসচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি থানা/উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৭ এপ্রিল প্রতিটি জেলা সদরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গত সরকারের স্বার্থবিরোধী বন্দর চুক্তি ও এক তরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে এসব বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স.উ.ম আবদুস সামাদ বলেন, “এক তরফা এসব চুক্তির ভালো মন্দ দেখতে হবে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ উল্লেখ স উ ম সামাদ বলেন, “এদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।”
তিনি বলেন, “মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণ মবের শিকার ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডসহ সব খুনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায়ভাবে গত সরকারের আমলে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাঈদ ও ফিকহ পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আউলিয়া কেরামের মাজার শরীফে হামলার ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত মাজার শরীফগুলো সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সহনশীল ও আউলিয়া-প্রবর্তিত ইসলামী আদর্শকে সমুন্নত রাখা জরুরি বলেও মনে করে দলটি।
উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবু সুফিয়ান আবেদী, গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান, মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম কাজল, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার, আবু নাসের মোহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সভাপতি আজাদ হোসাইন।
আরো উপস্থিত ছিলেন মশিউর রহমান, মাওলানা ফাইজুল কবীর, মোহাম্মদ উসমান গণি, পীর সৈয়দ আসাদুল্লাহ শাহ, সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এসবি