শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে ফেরি বিকল, আটকা শত শত যান
শরীয়তপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একসঙ্গে দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় যানবাহন পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর থেকে এই রুটে চলাচলে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মেঘনা নদীর দুই পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়েছে অন্তত ৪০০ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ‘কস্তুরি’ ও ‘কলমিলতা’ নামের দুটি ফেরি বিকল হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকে, যখন রুটে চলাচলকারী ফেরির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এতে যানবাহন পারাপারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়।
বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই নৌপথে সাধারণত চারটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। তবে দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় বর্তমানে সচল থাকা বাকি দুটি ফেরি দিয়ে সীমিত পরিসরে পারাপার চালু রয়েছে। বিকল ফেরিগুলো মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ফলে ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও জট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রায়ই ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য পরিবহনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
নরসিংহপুর ঘাটে আটকে থাকা এক ট্রাকচালক বলেন, “দুই দিন ধরে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। শীতের মধ্যে ঘাটে থাকা-খাওয়া খুব কষ্টকর। এভাবে বার বার ফেরি নষ্ট হলে আমরা ব্যবসা করব কীভাবে?”
সংকট মোকাবিলায় ভোলা ফেরিঘাট থেকে ‘কাবেরী’ নামের একটি ফেরি শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তবে ফেরিটি কখন পৌঁছাবে বা কবে নাগাদ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি বিআইডব্লিউটিসি।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট রাসেল হোসেন বলেন, “চারটি ফেরির মধ্যে দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উভয় প্রান্তে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ত্রুটি সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।”
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা এই রুটে ভোগান্তি কমাতে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পুরোনো ফেরির পরিবর্তে আধুনিক ও পর্যাপ্ত ফেরি সংযোজনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা/আকাশ/জান্নাত