চট্টগ্রামকে ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় চট্টগ্রামকে ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান হয়েছে। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রামের শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে এই সভা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সময়োপযোগী রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করে।
আলোচনা সভায় ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষ থেকে প্রথিতযশা ক্রীড়া সংগঠক মো. হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান স্বপন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, শাহাবুদ্দীন জাহাঙ্গীর, আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য ক্রীড়া সংগঠকরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শোয়েব, শিক্ষার্থী রহমতুল ইসলাম সোহেল, জাতীয় ক্রিকেটার ইমরুল করিম এবং জাতীয় সাঁতারু নুজহাত জাহানসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্টরা মতামত প্রদান করেন।
বক্তারা চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, খেলোয়াড় তৈরির অনুকূল পরিবেশের ঘাটতি এবং জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ক্রীড়া উন্নয়নের সম্ভাবনাময় দিকগুলো তুলে ধরে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বলেন, চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির জন্য আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহারেও বিভিন্ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল ক্রীড়া সংগঠন, প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সঞ্চালক তামিম ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, একসময় চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং এখান থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য খেলোয়াড় উঠে এসেছে। কিন্তু সময়ের সাথে সেই ধারাবাহিকতা কিছুটা কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ক্রীড়া সংগঠক, কোচ, খেলোয়াড় এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তামিম ইকবাল আরও বলেন, চট্টগ্রামের ক্রীড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এই অঞ্চলকে আবারও দেশের অন্যতম ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
তিনি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ক্রীড়ার প্রতি আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ক্রীড়া উন্নয়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/রেজাউল/বকুল