ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটির পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৭, ১০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:১৫, ১০ মার্চ ২০২৬
রাঙামাটির পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

রাঙামাটির একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন।

রাঙামাটিতে তৃতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে কৃষি জমির সেচ কাজের জন্য তেল নিতে বোলত নিয়ে পাম্পগুলোতে ঘুরছেন সবাই। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ালেও চাহিদা মতো জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাঙামাটি শহরে মোট সাতটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুটি পাম্পে ডিজেল এবং একটি পাম্পে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। গত রবিবার থেকে খুচরা দোকানগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

আরো পড়ুন:

হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, ‍“আমাদের চাহিদা ১৬ হাজার লিটার। তেল পেয়েছি আট হাজার লিটার। সবমিলে আমাদের কাছে তেল আছে ১৫ হাজার লিটার। ডিপো থেকে বলা হয়েছে, তেল যা দেওয়া হচ্ছে সেটা দিয়ে চারদিন চালাতে হবে, কিন্তু মানুষের যে ভিড় তাতে আমাদের যা আছে সবই দিয়ে দিচ্ছি। কোনো পাম্পে তেল না থাকায় চাপ বেশি পড়ছে।”

এদিকে জেলার সঙ্গে ছয়টি উপজেলার নৌ-যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় দূরপাল্লার পণ্যবাহী পরিবহন পরিচালনাতেও সমস্যায় পড়েছেন যানবাহনের চালকরা।

নানিয়ারচর উপজেলা থেকে আনারস নিয়ে বনরূপা সমতাঘাটে আসা কৃষাণী পরাণী চাকমা বলেন, “আনারস নিয়ে ঘাটে এসেছি, শুনলাম বনরূপা পাম্পে তেল দিচ্ছে, সেটা শুনে কিনতে আসলাম। আমার প্রয়োজন অন্তত ১০ লিটার, শুনছি ৫ লিটারের বেশি দেবে না।”

কুতুকছড়ি ইউনিয়ন থেকে আসা এক কৃষক বলেন, “প্রতি সপ্তাহে জমির কাজে ১৫ লিটার ডিজেল লাগে। তেল কোথাও না পেয়ে ২০০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে বনরূপা পাম্পে তেল কিনতে এসেছি। তাও পাচ্ছি ৫ লিটার।”

স্পিডবোট ঘাটের লাইনম্যান মহিউদ্দিন বলেন, “চাহিদা মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।”

মোটরসাইকেল চালক মিশু মল্লিক বলেন, “সকালে খবর পেলাম বনরূপা পাম্পে তেল দিচ্ছে, সেটা শুনেই এখানে চলে আসলাম, এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না পাম্প থেকে।”

রাঙামাটি ট্রাক-মিনি ট্রাক-পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। আজ মোটামুটি কাটিয়ে দিতে পারলেও সহসাই পাম্পগুলোতে তেল না আসলে সামনের দিনগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টদের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে কোনো পাম্পে অকটেন দেওয়া হলে অন্য কোনো পাম্পে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “রেশনিং পদ্ধতিতে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পগুলোর কারো তেল পেতে সমস্যা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

ঢাকা/শংকর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়