ঘুষের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক এএসআই জহিরুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বেকায়দায় পড়েন সেই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ধাপে ধাপে সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে।
এএসআই জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, তিনি সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে আবারও সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরী বাড়ি বাজারে এসে ভুক্তভোগীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। পরে স্থানীয়রা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে থানার হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পান।
এএসআই জহিরুল ইসলাম বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে ঘুষ আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এএসআই জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ইসহাক মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন।
ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, “গত ৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার ছবি দেখিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দরকষাকষির পর বাধ্য হয়ে তাকে নগদ ১ লাখ টাকা দিই। দাবি করা টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দিই।”
তিনি আরো বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা বিস্তারিত উপস্থাপন করি। এর পরেই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেন। হঠাৎ আজ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তার এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেন। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাকে অবরুদ্ধ করেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেছেন, “ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই। গতকাল ফতুল্লার এক এএসআইর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝামেলা হলে আমাদের থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে বসে ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় আমি ছিলাম না এবং ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।”
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেছেন, “হেড কোয়ার্টার্স থেকে জহিরুল ইসলামের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে, গতকাল অবরুদ্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। হয়ত তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজ করতে গেছেন।”
ঢাকা/অনিক/রফিক
২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে এল ‘পিভিটি সোলানা’