জ্বালানি সংকটে সাংবাদিকতায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাইবান্ধায় ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল চালকরা।
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়ছে সংবাদিকদের পেশাগত কাজে। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থলে উপস্থিতির ক্ষেত্রে জ্বালানির অভাব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন তারা। সংবাদিকরা জানান, তাদেরকে যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
সময় টিভির গাইবান্ধা প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম বলেন, “সকাল ১০টার মধ্যে বাসা থেকে নিয়মিত বের হই। সাংবাদিকতায় মোটরসাইকেল আমার গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল নিতে হয়। দূরের কোথাও যাওয়া আসা করলে তেল কমে যায়। পরে দূরে বড় দুর্ঘটনা বা অফিস থেকে এস্যাইনমেন্ট দিলেও আর যাওয়া সম্ভব হবে না।”
তিনি বলেন, “দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে মোটরসাইকেলের বিকল্প নেই। অন্য যানবাহনে যাতায়াত করে তো আর সাংবাদিকতা হয় না। সরকারি কর্মকর্তাদের মতো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ।”
সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে মোটরসাইকেলের উপর নির্ভরশীল পেশাজীবিরা। এরমধ্যে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন চাকুরীজীবির পাশাপাশি মহাবিপদে ২৪ ঘন্টাই ব্যস্ত থাকা গণমাধ্যম কর্মীরা।
গাইবান্ধায় ৭১ টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট তাজরুল ইসলাম বলেন, “কোথাও বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সেজন্য আমাদের ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক থাকতে হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখতে হয়। জ্বালানি তেলের সংকট কাজের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।”
গণমাধ্যম কর্মী আনোয়ার হোসেন শামিম কাজ করেন নাগরিক টেলিভিশনে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্পে কখন তেল পাওয়া যাবে, সেটার সুনির্দিষ্ট সময় নেই। যখন তেল দেওয়ার খবর পাই তখন দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ঠিক সেসময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে মোটরসাইকেলে পর্যাপ্ত তেলা না থাকায় সম্ভব কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।”
গাইবান্ধা মোটরযান পরিদর্শক কমাল আহমেদ কাজল জানান, জেলায় বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ নিবন্ধিত মোট ৫০ হাজার ৬৫৭টি গাড়ি রয়েছে। শুধু মোটরসাইকেল রয়েছে ৫০ হাজার ২০টি। এরমধ্যে ‘হ’ সিরিজের মোটরসাইকেল ৩৯ হাজার ৫৫৬টি (৫১–১২৫ সিসি), ‘ল’ সিরিজের ১০ হাজার ৩১টি (১২৫ সিসির উপর) এবং ‘এ’ সিরিজের ৪৩৩টি (৫০ সিসির নিচে) মোটরসাইকেল রয়েছে।
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার লিটার পেট্রোল, চার হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ এসেছে অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, “জেলার সাত উপজেলার ২২টি ফিলিং স্টেশন চলছে ধুকে ধুকে। পাম্প থেকে আমরা ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের যে চাহিদা পাঠাই, ডিপো থেকে দেওয়া হয় তার তিনভাগের একভাগ। তেল পাওয়া না গেলে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।”
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের প্রতি অবশ্যই সহনশীল। তবে, এই মুহূর্তে তাদের জন্য আলাদা করে তেলের সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়।”
ঢাকা/মাসুম/মাসুদ