ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তেহরানে শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৫:১৯, ২ এপ্রিল ২০২৬
তেহরানে শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা

তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

ইরানের রাজধানী তেহরানে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর তেহরানের এই ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শতবর্ষী স্তম্ভের’ ওপর হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেন।

আরো পড়ুন:

তিনি ঘটনাস্থল থেকে কিছু ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থাপনাটির কিছু অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক মাত্রায়’ হামলা চালিয়েছে। 

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী লিখেছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আইআরজিসি-র পদাতিক বাহিনীর ঘাঁটি ছিল। এছাড়া বাহিনীটি কমান্ডারদের বহনকারী একটি ভ্রাম্যমাণ সদর দপ্তর এবং তাবরিজে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের সাইটেও হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ইরানজুড়ে আইআরজিসি ও সামরিক বাহিনীর ‘শত শত’ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

তবে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানে নির্বিচার বোমাবর্ষণ করছে। কেবল সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং বেসামরিক স্থাপনাগুলোকেও ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সংস্থাটি জানায়, ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৯১ হাজার ৪৯৮টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ২২ হাজার ৫৮০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৭৬৩টি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৮টি রেড ক্রিসেন্ট সেবাকেন্দ্র সরাসরি হামলার শিকার হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ৩১৬টি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটির অভিযোগ, শত্রুপক্ষ কেবল সামরিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অবকাঠামোগুলোকে টার্গেট করছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়