রাঙামাটিতে অ্যাম্বুলেন্সচালকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্সচালকের অবহেলায় তিনদিনের এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, চালক হঠাৎ নবজাতকের মুখ থেকে অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে ফেলেন। ফলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার ভাসান্যদম ইউনিয়নের ঘনমোড় শীলকাটা ছড়া এলাকা থেকে অসুস্থ নবজাতককে লংগদু সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রেফার্ডের পর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক রত্ন বিকাশ চাকমা নির্ধারিত ভাড়া ১ হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ টাকায় রাজি হলেও যাত্রাপথে ড্রাইভারের আচরণ ছিল অমানবিক।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ভাঙা রাস্তায় গাড়ির গতি বাড়িয়ে এবং ভালো রাস্তায় ধীরগতিতে চালিয়ে চালক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর পর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে চালক হঠাৎ নবজাতকের মুখ থেকে অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে ফেলেন। অক্সিজেনের অভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে চালক ভাড়া নিয়ে চলে যান।
তিনি বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে অবহেলার কারণে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাম্বুলেন্স চালক রত্ন বিকাশ চাকমা বলেন, “নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেছেন।”
তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত ভাড়া নয়, কেবল বকশিস হিসেবে কিছু টাকা চেয়েছিলেন এবং বাকি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
লংগদু সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত জাহান নওরীন বলেন, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিন্নাত আলম বর্তমানে রাঙামাটিতে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনি ফিরলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “আমি ঘটনাটি জেনেছি। আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বলেছি।”
ঢাকা/শংকর/মাসুদ