ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রার ভাড়া অর্ধশতাব্দী পর শোধ করলেন মফিজুল
গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মফিজুল ইসলাম (পাঞ্জাবি পরিহিত) অর্ধশতাব্দী পর ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করেছেন।
অতীতের ছোট একটি ভুল, যা বহু বছর ধরে বিবেক নাড়া দিয়ে গেছে, অবশেষে সেটিরই দায় পরিশোধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মফিজুল ইসলাম (৬০)।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে, কৈশোর বয়সে জীবিকার তাগিদে ট্রেনে করে শ্রীপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতেন মফিজুল ইসলাম। সেই সময় তিনি কাঁঠালের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনের নিয়মিত টিকিট কাটা সম্ভব হয়নি। অনেক সময় টিকিট ছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতেন। কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কিছু অর্থ দিয়ে মুক্তি পেতেন।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সেই অপরাধবোধ একসময় মফিজুলকে ভেতর থেকে তাড়িত করতে থাকে। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন পুরনো সেই দায় আর বয়ে বেড়াবেন না। সম্প্রতি তিনি শ্রীপুর রেলস্টেশনে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বকেয়া ভাড়া পরিশোধের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে গত ২৮ মার্চ মফিজুল সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জমা দেন, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত হয়। এই অর্থ প্রদানকে তিনি নিজের নৈতিক দায়মুক্তি হিসেবে দেখছেন।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সেই সময় ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে তিনি আজকে ভাড়া পরিশোধ করেছেন। অর্থ জমা দেওয়ার পর তার মনে স্বস্তি বিরাজ করছে।
স্থানীয় রেলওয়ে কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, এত বছর পর স্বেচ্ছায় বকেয়া পরিশোধ করার ঘটনা খুবই কম দেখা যায়, যা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে।
বর্তমানে মফিজুল ইসলাম একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘ব্যাপারীবাড়ি ফাতেমাতুয যাহেরা মহিলা মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। আগেও অন্য এক ক্ষেত্রে তার বকেয়া থাকা অর্থ পরিশোধ করেছেন।
ঢাকা/রফিক/বকুল
আবারো বিরোধীদলের ওয়াকআউট