ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তেলের পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মিরপুরের লক্ষাধিক গ্রাহক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:১৬, ৯ এপ্রিল ২০২৬
তেলের পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মিরপুরের লক্ষাধিক গ্রাহক

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যেকার দ্বন্দ্বে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিরপুর উপজেলাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের ১৫টি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা স্থানীয় মেসার্স মল্লিক তেল পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। এ সময় মিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জরুরি সেবায় নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। কিন্তু, জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে কর্মীরা দ্রুত তেল নিতে চাইলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। 

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের মেরামত কাজ ব্যাহত হয়। এ ক্ষোভে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা স্থবির হয়ে পড়ে। 

মিরপুর উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাড়িতে পানি তুলতে পারছি না, রান্নাসহ সব কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।”

একই চিত্র সরকারি অফিসগুলোতেও। মিরপুর পৌর এলাকার সুলতানপুর থেকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করতে আসা রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার বলেন, “সকাল থেকে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে ফরম পূরণ বা টাকা জমা দিতে পারছি না। আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহ শেষ। এখন রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের এই কষ্টের দায় কে নেবে?”

মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফুল হক বলেছেন, “ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা রাত থেকেই কাজ করছিল। সকালে নতুন কিছু ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত যাতায়াতের জন্য কর্মীদের জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়। আমি নিজে ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করেছিলাম, যেন জরুরি বিবেচনায় আমাদের দ্রুত তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু, আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। তেল পেতে দেরি হওয়ায় লাইন চেক করে চালু করতেও বিলম্ব হয়েছে।”

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা/কাঞ্চন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়