ঢাকা     সোমবার   ১৮ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩৩ || ১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রেমের টানে ইটনায় চীনের যুবক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫২, ১৮ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫৫, ১৮ মে ২০২৬
প্রেমের টানে ইটনায় চীনের যুবক

গাও ওয়েইয়ান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, কথোপকথন থেকে ভালো লাগা। সেই টানেই হাজার মাইল দূরের দেশ চীন থেকে বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জের ইটনায় এসেছেন এক যুবক। উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামের মড়ল পাড়ায় তার আগমন ঘিরে চলছে আলোচনা।

মড়ল পাড়ায় আসা এই যুবকের নাম গাও ওয়েইয়ান। চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা পুলিশ বিভাগে কর্মরত বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন:

তার প্রেমিকা ঝুমা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তার দম্পতির মেয়ে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় গাও ওয়েইয়ান ও ঝুমা আক্তারের। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা, পরে ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় ভালোবাসায়। সময়ের সঙ্গে দূরত্ব যেন আর দূরত্ব থাকেনি। সম্পর্ককে পরিণতি দিতেই গত ১৬ মে রাতে মেয়েটির দেওয়া ঠিকানা কিষ্টপুর চলে আসেন গাও ওয়েইয়ান। বাস্তবে বিদেশি যুবককে বাড়িতে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঝুমার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কিছুটা হতবাক হন। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

রবিবার দুপুর থেকেই বিদেশি যুবকের আসার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাড়িটিতে ভিড় করতে থাকে উৎসুক লোকজন। কেউ শুধু একনজর দেখতে, কেউ ছবি তুলতে, আবার কেউ গল্প শুনতে হাজির হন সেখানে। এত মানুষের ভিড়েও বিরক্তির ছাপ ছিল না গাও ওয়েইয়ানের মুখে। গ্রামের মানুষের কৌতূহল, হাসি আর আন্তরিকতা উপভোগ করছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আবেগের গল্প হলেও আইনগত বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যেন ভবিষ্যতে মেয়েটিকে কোনো জটিলতা বা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে না হয়।

গাও ওয়েইয়ান বলেন, “অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে আসার ইচ্ছে ছিল। শুধু ফোনে কথা বলে আর ভালো লাগছিল না। আমি ঝুমাকে ভালোবাসি। তাই এত দূর থেকে এসেছি। এখানকার মানুষও আমাকে খুব আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে।”

ইটনা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চিনা যুবক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছেন। বর্তমানে ওই পরিবারের আতিথিয়তায় তিনি রয়েছেন। প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তাও দেওয়া হবে।

ঢাকা/রুমন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়