ঢাকা     সোমবার   ১৮ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩৩ || ১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

এজলাসে ২ আইনজীবীর হাতাহাতি 

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০১, ১৮ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:০৩, ১৮ মে ২০২৬
এজলাসে ২ আইনজীবীর হাতাহাতি 

বরগুনার আদালতে রবিবার দুপুরে হাতাহাতিতে জড়ান দুই আইনজীবী।

বরগুনার পাথরঘাটার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী ও এক পুরুষ আইনজীবীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় বিচারক পনির শেখ তার খাস কামরায় অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার পরে জড়িত দুই আইনজীবীর সদস্য পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব বিচারিক আদালতে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব মনোয়ারা আক্তার ও পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত দুই আইনজীবী হলেন- অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু। অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকালে আইনজীবীরা নিজ নিজ চেম্বার থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় অ্যাডভোকেট লাকির মহুরি (আইনজীবী সহকারী) মিরাজ আহমেদ অ্যাডভোকেট মঞ্জুর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে উকিল বারে আসেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দুই আইনজীবীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটে। উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। 

পরে সবাই এজলাস কক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই আইনজীবীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি বলেন, ‍“অ্যাডভোকেট মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে তার মহুরি মিরাজ আহমেদকে নিজের সঙ্গে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়।” 

তার অভিযোগ, রবিবার সকালে মিরাজকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালতে আনার বিষয়টি জানতে চাইলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু দাবি করেন, ঘটনাটি অতটা গুরুতর নয়। সহকর্মীর একজন সহকারী তার গাড়িতে করে আদালতে এসেছেন, যা সহমর্মিতার জায়গা থেকেই করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অ্যাডভোকেট লাকি লোকসম্মুখে তার দিকে জুতা নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, বরগুনা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব মনোয়ারা আক্তার বলেন, “ঘটনার পরপরই বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সদস্যরা মত দেন, এ ধরনের আচরণ আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র ও পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থি এবং এতে আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব বিচারিক আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়