টুংটাং শব্দে মুখর গোপালগঞ্জের কামারপল্লী
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, গোপালগঞ্জের কামারশিল্পীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। কোরবানি ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ দা, ছুরি, চাপাতি ও বটি তৈরিতে দিন-রাত পার করছেন জেলার কর্মকাররা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার কামারপাড়াগুলো।
সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও, ঈদের এই সময়ে বাড়তি আয় দিয়ে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার কামারপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, দম ফেলার ফুসরত নেই কারিগরদের। লোহা পোড়ানো লাল আগুনে হাওয়া দেওয়া আর হাতুড়ি পেটানোর শব্দে চারপাশ মুখর। কোরবানি পশু জবাই এবং মাংস কাটার জন্য দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি তৈরিতে ব্যস্ত সবাই। কাজের চাপে অনেকেরই খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়।
কামারপল্লীর কানাই কর্মকার জানান, “ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের চাপ তত বাড়ছে। কেউ চাপাতি, কেউ ছুরি, আবার কেউ বটি বানাতে ভিড় করছেন। সময়মতো অর্ডার বুঝিয়ে দিতে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।”
চলতি বছর লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কোরবানি সরঞ্জামের দামও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কামারপল্লীর খোকন কর্মকার জানান, গত বছর প্রতি কেজি লোহা ৮০ টাকায় কিনলেও এবার তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে ২৫০ টাকার কয়লার বস্তা এবার ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। এ কারণেই কোরবানির সরঞ্জাম এবার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কামারপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, পশু জবাইয়ের ছুরি এ বছর ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
কামারপল্লীতে শুধু নতুন সরঞ্জাম কিনতেই নয়, অনেকে আসছেন পুরোনো বটি-ছুরি শান দিয়ে ধারালো করে নিতে। তবে দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কামারপল্লীতে অর্ডার দিতে আসা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, সামনে ঈদ। এবছরও আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে পশু কোরবানি দিব। এজন্য চাপাতি ও ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের অর্ডার দিতে এসেছি। তবে দাম এবছর কিছুটা বেশি। আশা করছি, সময়মতো ডেলিভারি পেয়ে যাব।
ঢাকা/বাদল/ফিরোজ
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু