ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩৩ || ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

খুতবা শেষে আরাফার ময়দানে নামাজ আদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ২৬ মে ২০২৬  
খুতবা শেষে আরাফার ময়দানে নামাজ আদায়

খুতবা পাঠ করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। ছবি সংগৃহীত

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ধবধবে সাদা ইহরামে সমবেত হন ঐতিহাসিক এই প্রান্তরে।

পবিত্র হজের অন্যতম অনুষঙ্গ খুতবা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টা ১৮ মিনিটে মক্কার আরাফাত ময়দানের নামিরাহ মসজিদ থেকে হজের খুতবা পাঠ শুরু করেন মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শেখ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফি। খুতবা পাঠ শেষ হয় বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে।

আরো পড়ুন:

হজের খুতবা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সমবেত হওয়া লাখ লাখ হাজির জন্য দিক-নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। শেখ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফি হজের খুতবা পাঠ শেষে নামাজ পড়ান।

বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হলো।

এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করা ও খুতবা শোনা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এটি কেয়ামত দিবসের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এই দিনে রোজা রাখেন এবং ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর হজ করতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলমানরা সৌদি আরবের মক্কায় সমবেত হন। কালেমা, নামাজ, জাকাত, রোজার পাশাপাশি হজ ইসলামের পঞ্চম ও সর্বশেষ। এ বছর সৌদি আরবের বাইরে থেকে ১৫ লাখেরও বেশি হাজি মক্কায় সমবেত হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকেও ২০১টি ফ্লাইটে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজ পালনের নিয়ত করার পর মক্কায় প্রবেশের আগে হাজিরা ইহরাম পরিধান করেন। পুরুষরা দুটি সাদা পোশাক এবং নারীরা শালীন পোশাক পরেন। ইহরামের এই বিশেষ পোশাক সমতা, নম্রতা ও ঐক্যের প্রতীক। এর মাধ্যমে জাতি, সম্পদ ও মর্যাদার ভেদাভেদ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সোমবার (২৫ মে) হাজিরা প্রথমে তাওয়াফ আল-কুদুম সম্পন্ন করেন, অর্থাৎ কাবা শরিফে আগমনী তাওয়াফ করেন তারা। তাওয়াফের সময় মুসলমানরা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার প্রদক্ষিণ করেন।

এরপর হাজিরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার হেঁটে সাঈ সম্পন্ন করেন। সাঈ করার এই আচার নবী ইব্রাহিম (আ.) এর স্ত্রী হাজেরা তাঁদের ছেলে ইসমাইল (আ.) এর জন্য মক্কার মরু উপত্যকায় পানির অনুসন্ধানের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এরপর আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে সেখানে জমজম কূপের উদঘাটন ঘটে।

এরপর হাজিরা মিনায় যান এবং সেখানে গতকাল রাতে অবস্থান করেন। তারা সারা রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগি করেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় জিকির ও তালবিয়া পাঠ করেন।

মঙ্গলবার সকালে মিনা থেকে হাজিরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাত ময়দানে পৌঁছেন। তারা সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রার্থনা ও তওবা করে সময় কাটাবেন। নামাজ, কোরআন পাঠ, দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করবেন তারা।

বুধবার (২৭ মে) মুজদালিফা থেকে হাজিরা মিনার জামারাতে গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এদিন পাথরের স্তম্ভে সাতটি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। হাজিদের পাথর নিক্ষেপের এই কার্যক্রম শয়তানের প্রলোভনকে প্রত্যাখ্যানের প্রতীক।

এদিন হাজিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং পরে পশু কোরবানি করবেন। এ কার্যক্রম আল্লাহর আদেশ পালনে ইব্রাহিম (আ.) এর নিজ পুত্রকে উৎসর্গ করার ইচ্ছা এবং আল্লাহর কৃপায় অলৌকিকভাবে পশু জবাই হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মুসলমানরা তিন দিন (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) পশু কোরবানি করতে পারেন।

পশু কোরবানির পর পুরুষেরা মাথার চুল কামিয়ে ফেলবেন বা ছেঁটে নেবেন এবং নারীরা তাদের চুলের একটি ছোট অংশ কেটে ফেলবেন।

এরপর হাজিরা মূল তাওয়াফ করার জন্য মক্কায় ফিরবেন। সেখানে তারা কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার হেঁটে সাঈ করবেন।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হাজিরা আবারও মিনায় ফিরে তিনটি পাথরের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর হজের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে মিক্কায় ফিরে কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন হাজিরা।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

ঢাকা/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়