ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নারীর ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তা প্রয়োজন

আনিকা তাসনিম সুপ্তি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২০ ৯:৫৪:২৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২২ ১০:৫১:৪৬ এএম

খুব ঘটা করে গতকাল পালিত হলো আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর দিবসটি পালিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হয় এ দিবস।

নারী নিজে উদ্যোক্তা হয়েও অন্যের কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, নারী উদ্যোক্তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাই আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।

বিশ্বের ১৪৪টি দেশের সঙ্গে গত বছরের ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে নারী উদ্যোক্তা দিবস ২০১৮। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের উদ্যোক্তার প্ল্যাটফর্ম ‘চাকরি খুঁজবো না, চাকরি দেব’ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন ও এন্টারপ্রিনিউরশিপ বিভাগ যৌথ উদ্যোগে এই উদযাপনের আয়োজন করেছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশে যত উদ্যোক্তা আছেন, তার প্রায় ৩২ শতাংশ নারী। একটি দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে কতজন নারী এ হিসাবে বিশ্বের ৫৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৬ নম্বরে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী শিল্পোদ্যোক্তার সংখ্যা ২৩ লাখ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার চলতি বছর বেইলি রোডে নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘দুই কোটি নারী উদ্যোক্তা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। সমাজের দুঃস্থ ও বেকার নারীরা আজ উদ্যোক্তা হিসেবে সফল।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোক্তা নারীরা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করেছে।’

দেশের দারিদ্র্যতা বিমোচন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং উন্নয়নে নারী উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এরপরও দেখা যাচ্ছে ছোট বা মাঝারি যেকোনো শিল্পেই নারী উদ্যোক্তাদের মুখোমুখি হতে হয় নানা ধরনের প্রতিকূলতার। উন্নত দেশের ২৫ ভাগ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নারী। অথচ বাংলাদেশে এই হার ১০ শতাংশের কম। নারী উদ্যোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাচ্ছেন না। ঋণ পেতে পুরুষের চেয়ে বেশি শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা উঠে আসতে পারছেন না।

নারী উদ্যোক্তারা বিভিন্ন আঙ্গিকে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বেশির ভাগ নারী উদ্যোক্তাই সমাজ কর্তৃক নিরুৎসাহিত হন। অনেক নারীরা আত্মবিশ্বাসী কিন্তু বাজার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় সঠিকভাবে এগোতে পারছেন না। আবার অনেকের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও রয়েছে। অনেকে কাঁচামাল জোগাড় সংক্রান্ত সংকটে থাকেন। নারী উদ্যোক্তাদের কাজের পরিবেশও নারীবান্ধব নয়।

এদের বড় অংশই বছরের বিভিন্ন উৎসবে ব্যবসা করে থাকেন। কিন্তু অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো প্রয়োজনীয় ঋণ না পাওয়ায় উৎসবের ব্যবসায় শামিল হতে পারেন না। অনেক সময় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ পেলেও ওই ঋণের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকে না আর।

তবে আশার কথা এই যে, বর্তমানে হাতেগোনা ২/১ জন প্রতিষ্ঠিত বা অভিজ্ঞ নারী উদ্যোক্তা নতুন নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমান সরকারের সময়ে সাফল্যজনক কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রয়াস কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ধানমণ্ডিস্থ রাপা প্লাজার ৪র্থ ও ৫ম তলায় স্থাপিত ‘জয়িতা’ বিপণন কেন্দ্র। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিপণন এবং বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে জয়িতার মাধ্যমে একটি নারী উদ্যোক্তাবান্ধব আলাদা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে সারা দেশব্যাপী গড়ে তোলার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। এতে করে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গতি সঞ্চারিত হবে, নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে। সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন হবে।

নারী উদ্যোক্তা বাড়াতে কম সুদে সহজে ঋণ পাওয়াসহ নানা সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতি বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রাখা হচ্ছে।

তবে, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি লক্ষণীয়। সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা বিশেষ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না বলে অনলাইন উদ্যোগে নারীদের এই স্বচ্ছন্দ পদচারণা।

লেখক: শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।


কুবি/হাকিম মাহি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন