RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বোকা বাক্সে বন্দি আমাদের ক্যাম্পাস জীবন

তানজিম হাসান রাতুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২০  
বোকা বাক্সে বন্দি আমাদের ক্যাম্পাস জীবন

স্কুল জীবন শেষে একটি ভালো কলেজে ভর্তি হতে কে না চায়! অনেকে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, অনেকে পারে না। এ কারণেই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে একঝাঁক তরুণ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজে। 

কেউ পেরেছেন তাদের কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তি হতে, আবার কেউবা পারেনি। আবার অনেকে ভাল কলেজে ভর্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হয়তো ভর্তিও হতে পারেনি। ঠিক আমিও অনেক প্রতিকূলতার গণ্ডি পেরিয়ে একটি সুন্দর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে ভর্তি হয়েছি, যার নাম মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। 

প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে প্রতিটি উচ্চমাধ্যমিক যেমন নতুন তরুণদের কোলাহলে পূর্ণ থাকে, তেমনি আমার কলেজেও কোলাহলপূর্ণ একটি অবস্থা বিরাজ করে। প্রথম দিকে শিক্ষক, সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হতে হতেই সময় কেটে যায়, আবার নতুনদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা বা আগ্রহ সবার মধ্যে থাকতে দেখা যায়। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ এ-এক নান্দনিক চিত্র। কিন্তু এই বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে বিশ্ব যখন একটা সংকটময় সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন উচ্চমাধ্যমিকের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

এভাবে অনেক দিক চলেছেও, তবে সবকিছু তো আর থেমে থাকলে চলে না। তাই একাদশ শ্রেণির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম অনলাইনে চলতে থাকে। প্রথমত, শিক্ষকদের সঙ্গে ওরিয়েন্টেশন ক্লাস, ক্লাস টিচারসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব,  তারপর ক্লাস রুটিন প্রকাশ হওয়া ও চূড়ান্ত রুটিনের মাধ্যমে  ক্লাস শুরু হয়। কিছু দিন পর ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচন করেন শ্রেণি শিক্ষক। ছেলেদের মধ্যে আমি, মেয়েদের মধ্যে অনন্যা সরকার নির্বাচিত হয়। 

আমাদের ক্লাসের ৬৪ জন শিক্ষার্থী হয়তো ৬৪ জেলার, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবাই তাদের শিক্ষকের দেওয়া আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের মধ্যে। যেন পৃথিবীটা ছোট হতে হতে ড্রয়ারে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি।  

জুমে স্যাররা ক্লাস নেন, কিন্তু তাদের কাঙ্ক্ষিত অফলাইনের সেই জীবন্ত ক্লাসটি শত চেষ্টার পরও জীবন্ত লাগে না। তবে অনেক শিক্ষক আবার সেই অনলাইন ক্লাসটিও গল্প আড্ডায়, জীবনবোধ দিয়ে জীবন্ত করে তোলেন। হয়তো তাদের কাঙ্ক্ষিত শাসনটিও করতে পারেন না অনলাইনের এ-ই জটিল ধাঁধাঁয়। 

শিক্ষকরা তাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে দেখে যে শান্তি পান, সেই তৃপ্তি হয়তো তারা আর পান না। চোখে হয়তো ঠিকই দেখেন ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লেতে, কিন্তু সেটাই কি চোখের শান্তি মেটানো দেখা! এ একটি যান্ত্রিক অবস্থা।

এবার নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছে হয়। বাংলাদেশের অন্য সব কলেজ থেকে আমার কেলেজ একটু আলাদা, অন্যরকম। কারণ, আমাদের ক্যাম্পাসের প্রতিটা কোণা যেখানে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে শিক্ষার্থী দিয়ে, সেখানে হয়তো এখন একটা কাক পক্ষীও নেই। কেন নেই সেই প্রশ্ন হয়তো ক্যাম্পাস নিজেকেই নিজে করে। কিন্তু ক্যাম্পাস কি তার উত্তর দেয়?   ক্যাম্পাস এতক্ষণে কোলাহলপূর্ণ থাকতো। শিক্ষকরা ধারাবাহিকভাবে ক্লাস নিতো, কুইজ ক্লাব ঘরে কুইজ হতো, চলত দেশসেরা বিতর্ক ক্লাবের বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাবের বিজ্ঞান চর্চা, আবৃত্তি ক্লাবের বিদ্রোহী কবিতা, আর কত কি! শিক্ষার্থীরা টিফিন টাইমে ‘ডালিয়া’ ক্যান্টিনে ভিড় জমাতো। তারা তাদের ক্যাম্পাসের ২৪টি ক্লাবের মধ্যে বিভিন্নসহ প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতো, সেখানে কেউ তাদের ভিতরে বিরাজমান প্রতিভা দেখিয়ে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেত, কেউ কলেজ লিডার হতো, কেউবা হাউস লিডার। সব মিলিয়ে একটা উৎসবের আমেজ থাকতো।

আমার কলেজে বিভিন্ন গ্যালারির মাধ্যমে শিক্ষণীয় সব বিষয়কে তুলে ধরার একটা চেষ্টা করা হয়েছে ও যা শতভাগ স্বার্থক। একেকটি গ্যালারি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা একবার একটি শিক্ষার্থী ঘুরে দেখলেই তার মনের ভিতরে ধারণ করতে পারবে ও সেই বিষয় সম্পর্কে একটি সুনিশ্চিত ধারণা সে পেয়ে যাবে। আমাদের কলেজের গ্যালারিসমূহ এক নজরে দেখে আসা যাক-

মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি, Health & Hygiene Gallery, Science Galaxy, আমার সোনার বাংলা গ্যালারি, শিল্পাঙ্গন গ্যালারি, লোকশিল্প ও কারুকাজ গ্যালারি, শিল্প সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গ্যালারি, দুর্বার বাংলাদেশ গ্যালারি, স্বপ্ন সিড়ি, সশস্ত্রবাহিনী গ্যালারি, জ্ঞান কুঞ্জ গ্যালারি, মানবিক ও বিজনেস গ্যালারি ও স্পোর্টস গ্যালারি। আর নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার।

এগুলোকে হয়তো এখন আর কেউ দেখে না। কিন্তু এগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়েছে অনেকেই। আরও অনেকে পরিচিত হবে। আর জ্ঞান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে জানার দারুণ ইচ্ছে। 

লেখক: শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণি, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। 

ঢাকা/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়