ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবিতে প্রথম বর্ষের বৃত্তির টাকা মিলছে শেষ বর্ষে

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১১:৩৪, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
ইবিতে প্রথম বর্ষের বৃত্তির টাকা মিলছে শেষ বর্ষে

প্রতি বর্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভাগের প্রথম ছয় শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে থাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এই বৃত্তির টাকা যথাসময়ে হাতে পাচ্ছেন না তারা। স্নাতক প্রথম বর্ষে মনোনীত বৃত্তিপ্রাপ্তদের টাকা মিলছে শেষ বর্ষে এসে। ফলে বৃত্তির টাকা একাডেমিক কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সবধরনের ফি নিয়মিত নিলেও বৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কচ্ছপগতির জন্য কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব ও গাফিলতিকেই দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২০১৬-১৭, ২০১৫-১৬ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। যেখানে অনেক বিভাগে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না থাকলে স্নাতকোত্তরও শেষ হতো এই বর্ষের শিক্ষার্থীদের। স্নাতকের শেষ প্রান্তে এসে প্রথম বর্ষের মেধাবৃত্তির টাকা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৃত্তিপ্রাপ্তরা। একইসঙ্গে এভাবে বৃত্তি প্রদান মেধাবীদের মাঝে উৎসাহের পরিবর্তে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন তারা।

আরো পড়ুন:

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি বছর মেধাতালিকায় থাকা প্রথম ছয়জনের তিনজনকে মেধাবৃত্তি এবং তিনজনকে সাধারণ বৃত্তি দেয় প্রশাসন। ১৯৯৬ সাল থেকে একই হারে বৃত্তি দেওয়া হলেও ২০১৮ সালে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়। এতে মেধাবৃত্তিতে মাসে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে টাকা ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করা হয়। বিভাগ থেকে নতুন হারে বৃত্তি প্রদানের নোটিশ দিলেও এবারো আগের হিসাবে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি নতুন নিয়ম এখনো কার্যকর হয়নি। বিভাগ থেকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বৃত্তির টাকা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ও টিউশন ফি বাবদ বৃত্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সময়মতো টাকা না পাওয়ায় বৃত্তির টাকা একাডেমিক কাজেই আসছে না। কর্তৃপক্ষ চাইলে ফল প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই টাকা প্রদান করতে পারে, আর তখনই বৃত্তির মূল লক্ষ্য পূরণ হবে।

ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, প্রথম বর্ষের টাকা চার বছর পর পেলাম। তারপরও আবার এক-তৃতীয়াংশ কম দেওয়া হলো। এই বৃত্তির টাকা পেতে ব্যাংকে আবার ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। এটা মেধাবীদের অবমূল্যায়ন।

এ বিষয়ে বৃত্তি শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার ইনামুল কবির বলেন, আগে থেকেই বৃত্তি প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা ছিল। আমরা এটি কমানোর চেষ্টা করছি। করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না থাকলে এর মধ্যে আরও দুই শিক্ষাবর্ষের টাকা দেওয়া যেত। পরবর্তী সেশনগুলো যথাসময়েই বৃত্তির টাকা পাবে বলে আশা করি। আর বৃত্তির টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। পরবর্তী সেশন থেকে কার্যকর হবে।

নাহিদ/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়