ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১২ ১৪২৮ ||  ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

যদি আবার ফিরে পেতাম স্কুলজীবন!    

ইমন ইমলাম, জাবি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ৩ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:১৭, ৫ ডিসেম্বর ২০২১
যদি আবার ফিরে পেতাম স্কুলজীবন!    

ছাত্রজীবনের রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়ের নাম স্কুলজীবন। যে জীবনের শুরুটা হয় শিক্ষকদের শাসনের মধ্যদিয়ে আর শেষটা হয় অসংখ্য স্মৃতির মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে।

স্কুলজীবন আমাদের ছাত্র জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। জীবনের এই মানমন্দিরে আমরা বড় হয়ে ওঠা শিখি, পড়াশোনা শিখি, জীবনের লদ্ধ অভিজ্ঞতাকে জীবন চর্চায় কেমন করে কাজে লাগাতে হয় তাও শিখতে পাই। বিদ্যালয়ে সারা জীবনের জন্য বিভিন্ন বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের পরম সখ্যতা গড়ে ওঠে, শিক্ষকদের সঙ্গে গড়ে ওঠে শাসন ও স্নেহের বন্ধন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তৈরি হয় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। সেই স্মৃতিগুলো বিদ্যালয় জীবনে অনুধাবন করা না গেলেও মধ্য বয়সে গিয়ে সেসব সোনালি সময়ের কথা স্মরণ করে মনকে দোলা দিয়ে যায়। 

স্কুলজীবন পার করে আসা সেইসব তরুণদের স্মৃতিমাখা অনুভূতিগুলোই তুলে ধরেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন ইসলাম।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত তালগাছি আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাশিদা খাতুন বলেন, স্কুলজীবনের দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই নিজের মনের অজান্তেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি সময় ছিল ওই স্কুল জীবনটাই। নির্দিষ্ট একটা ইউনিফর্ম, নিয়মমাফিক ক্লাস সবটাই যেন আজ নিছক কল্পনা। এই বিদ্যাপীঠেই আমার হাতেখড়ি। এর সান্নিধ্যে এসে শিখেছি প্রজ্ঞা, জ্ঞান, আচার ও নিষ্ঠা। ক্লাসরুমের হৈচৈ, কোলাহল, বন্ধুদের সঙ্গে দল বেধে স্কুলে আসা ও বাড়ি ফেরার সেই সময়গুলো যেন এখনো আমায় ডাকে। 

আজও মনে পড়ে মাঠে দাঁড়িয়ে অ্যাসেম্বলির কথা, কখনো কখনো খুব চেষ্টা করতম অ্যাসেম্বলি ফাঁকি দেওয়ার কিন্ত শাহাদত স্যারের কড়া নজর এড়িয়ে যেতে পারতাম না। বাড়ি থেকে সেই ভোরে আসতাম, বিকেল ৪টায় বাড়ি ফিরতাম, তখন কি যে মজা হতো! মনে হতো খাঁচায় বন্দি পাখি যেন মুক্তি পেয়েছে। 

আমি কখনো টিফিন নিতাম না, শ্রাবনী, তনিমা ওদেরটা নিয়ে খেতাম, কখনো রাগ করতো আাবার তৎক্ষণাৎ এসে হাসিমাখা মুখে কথা বলতো। আজও মনে পড়ে হাস্যরসাত্মক মোবাক্ষর স্যারের ক্লাসের কথা, হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি আমাদের পাঠদান সম্পন্ন করতেন। সেইসব দিন আজও স্মৃতির পাতায় কড়া নাড়ে। 

সিরাজগঞ্জের বেলকুচির জি এস কে এল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলী আক্কাস স্মৃতি নিয়ে বলেন, আমার স্কুলজীবনের দিনগুলো সত্যি অনেক সুখের ছিল। যে সুখ হারিয়ে যায়নি বরং স্মৃতির পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে রয়েছে। যে স্মৃতি এখনো আমার মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ক্লাসের একজন মনোযোগী ছাত্র হওয়ায় শিক্ষকরা যেমন স্নেহ করতেন, তেমনি বন্ধুদের কাছ থেকেও অনেক ভালোবাসা পেতাম।

আমার মনে পড়ে, ভালো গান গাইতে পারতাম বলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষ হলে প্রিয় শিক্ষকরা অনেক সময় আমাকে গান গাইতে বলতেন। আমি গান গাওয়ার পর আমাকে প্রায়ই শিক্ষকরা নানারকম পুরস্কার দিতেন। বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি, আড্ডা, দুষ্টুমি কতই না মজার ছিল সেই দিনগুলো। 

শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছন্দামনি বলেন, স্কুল জীবন আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। যে ধাপ আমাকে শিখিয়েছে বন্ধুত্বের মানে, যে ধাপ শিখিয়েছে জীবনের মানে। এই বিদ্যালয় জীবনে এসেই আমি চলার পথে ঠিক-ভুল এবং জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে শিখেছি। ভালো-খারাপ সবার সঙ্গে মানিয়ে পথ চলতে শিখেছি। আত্মবিশ্বাসের সাথে সিদ্ধান্ত নিতে শিখেছি। 

ময়মনসিংহ জেলার চেচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম চঞ্চল স্কুলজীবনের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একটি শিশুকে মানুষ ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পেছনে পরিবারের পরে যে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে, সেটা হলো বিদ্যালয় জীবন।

বিদ্যালয় জীবনই আমাকে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালোমন্দের হাতেখড়ি দিয়েছে। এছাড়াও বন্ধুবান্ধবদের সাথে ক্লাসরুমের সেই আড্ডাগুলো এখনো অনেক মনে পড়ে। শিক্ষাঙ্গনের হারানো সেই দিনগুলো আজ বড্ড মিস করি।

রাজবাড়ী জেলার মাছপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ। স্কুল জীবনের সেই দিনগুলো সম্পর্কে মৌ বলেন, স্কুলজীবনের সোনালি দিনগুলোর কথা ভাবলেই সবার আগে মনে পড়ে স্কুলজীবনের দিনগুলোর কথা। স্নিগ্ধ ও স্বচ্ছ বাতাসের মতোই নির্মল ছিল স্কুলজীবনের প্রতিটা দিন। স্কুল ইউনিফর্ম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, ঝালমুড়ি, চটপটি খাওয়া, বিভিন্ন রকম মজার মজার খেলা, সবাই একসঙ্গে শেয়ার করে টিফিন খাওয়া, সবই খুব মিস করি। এখন এতগুলো বছর পরেও মনে হয়, ইশ! আবার যদি সেই সোনালি দিনগুলো ফিরে পেতাম! তাহলে কতোই না মজা হতো!

ময়মনসিংহ জেলার নবারুণ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেন বলেন, আমার স্কুলজীবন ছিল খুবই আনন্দদায়ক। স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, মেলায় ঘুরতে যাওয়া কতোই না আনন্দ উল্লাসের সময় ছিল আমার স্কুল জীবনের দিনগুলো। আজ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসেছি, তবুও সেই দিনগুলো বড্ড মনে পড়ে। সেই ধরাবাধা ক্লাসরুমে আবারও ফিরতে ইচ্ছে করে।

লেখক: শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়