ঢাকা     রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আন্তর্জাতিক ফিজিক্সে রুয়েটের স্বর্ণজয়

রুয়েট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:০১, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফিজিক্সে রুয়েটের স্বর্ণজয়

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো এক গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্নাতক পর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি ফিজিক্স কম্পিটিশন (ইউসিপিসি)–২০২৫’ এ অংশ নিয়ে রুয়েটের একটি দল ‘টিম-৪৯৬’ স্বর্ণপদক অর্জন করেছে।

এই অর্জনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইউসিপিসিতে রুয়েটের কোনো দল স্বর্ণপদক লাভ করলো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

দ্য ইউনিভার্সিটি ফিজিক্স কম্পিটিশন একটি আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক প্রতিযোগিতা, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষার্থীরা তিন সদস্যের দলে অংশগ্রহণ করে। চলতি বছরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে গত ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বর—মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি জটিল বাস্তবভিত্তিক সমস্যাকে পদার্থবিজ্ঞানের নীতিমালার আলোকে বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ করা হয় ১৫ জানুয়ারি।

২০২৫ সালের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৮৩৮টি দল গবেষণাপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি দল (১.৯ শতাংশ) স্বর্ণপদকের জন্য নির্বাচিত হয়। এই গৌরবজনক তালিকায় স্থান করে নেয় রুয়েটের টিম-৪৯৬।
রুয়েটের বিজয়ী দলে ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী; রুদ্র কর্মকার ও সানজিদা ইসলাম মৌ। দলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন।

এই অর্জনের মাধ্যমে টিম-৪৯৬ শুধু রুয়েটের ইতিহাসেই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করেছে। এ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিনটি দল স্বর্ণপদক অর্জন করেছে, যার মধ্যে রুয়েটের দলটি সর্বশেষ সংযোজন।

এ বিষয়ে দলের সদস্য ও টিম লিডার রুদ্র কর্মকার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “গত দুই বছর ধরে এই প্রতিযোগিতাটি আমার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। সঠিক সময় ও একজন অসাধারণ সতীর্থের সঙ্গে আমরা শেষ পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি। নির্দিষ্ট কোনো সমাধান না থাকা একটি সমস্যাকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্লেষণ, কোডিং, সমাধান উন্নয়ন ও গবেষণাপত্র রচনার মাধ্যমে শেষ করতে হয়েছে। সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করেছি। সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পা এবং আমার সতীর্থের(মৌ) অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা রুয়েটকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করে স্বর্ণপদক অর্জন করতে পেরেছি।”

ঢাকা/মাহাফুজ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়